ভিজিট করুন নতুন ও স্হায়ী ব্লগ www.alomoy.com, it.alomoy.com
খন্ডন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খন্ডন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ধর্ম মানব জীবনের কোন আলাদা বিভাগ নয় বরং সকল বিভাগের নিয়ন্ত্রক।

মানব জীবন অনেকগুলো বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত। যেমন অথর্নীতি, রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, বিজ্ঞান ইত্যাদি। প্রচলিত অর্থে ধর্মকেও এমন একটি বিভাগ মনে করা হয়।সেক্ষেত্রে প্রশ্ন দাঁড়ায় সেই ধর্ম মানব জীবনে কি কাজে লাগে? আমি নামাজ পড়লাম, রোজা রাখলাম, নফল ইবাদাত করলাম অর্থাৎ ধর্মীয় কাজ করলাম। কিন্তু এটা করে আমি সময় নষ্ট (?) করলাম কেন?
আমি তো ঐ সময় বসে বসে বিজ্ঞান শিখতে পারতাম বা গল্প পড়তে পারতাম।
এভাবে চিন্তা করলে মানবজীবনে ধর্মের কোন প্রয়োজনীয়তাই নেই। আর সে কারণে ধর্ম নামে আলাদা তো দূরের কথা কোন বিভাগই থাকা উচিৎ নয়।

এজন্যই কিছু বস্তুবাদী ও কমিউনিস্ট ধর্মকে মানবজীবন থেকে ছেঁটে ফেলতে চাচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় (?) কাজ করে সময় নষ্ট করার মানে কি।

কিন্তু ধর্মতো নিছক আচার-অনুষ্ঠানের নাম নয়। সঠিক করে বললে ধর্ম হচ্ছে জীবনব্যাবস্থা অর্থ্যাৎ দ্বীন।মানবজীবনে অনেকগুলো বিভাগ আছে সত্য। কিন্তু সেই বিভাগগুলোকে যখন ধর্মের আওতায় আনা হবে এবং ধর্মের (সঠিক করে বললে দ্বীন) মাপকাঠি দিয়ে বিচার করে পরিচালনা করা হবে তখনি এবং শুধুমাত্র তখনি সেই সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাঙ্খিত লক্ষ্যে অর্থ্যাৎ মানবজীবনকে শান্তি উপহার দেবার লক্ষ্যে পৌঁছুবে।

প্রশ্ন আসবে এসকল বিভাগকে (অর্থনীতি, রাজনীতি ইত্যাদি) কেন কোন কিছুর অধীনে রাখতে হবে?
সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে চলুক। যেমন বিজ্ঞান, অর্থনীতি ইত্যাদি যার যার নিজের নিয়মমাফিক চলুকনা।


এ প্রস্তাবটা বাহ্যিকভাবে যৌক্তিক মনে হলেও অন্তঃসারশূণ্য।
কারণ এ বিভাগগুলো বাহ্যিকভাবে পরস্পর-সম্পর্কহীন মনে হলেও তারা এক অপরের সাথে গভীরভাবে আন্তঃসম্পর্কিত। তাই কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে সকল বিষয়কে মিলিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ আপাতদৃষ্টিতা বিষয়গুলোকে পরস্পর সম্পর্কহীন মনে হলেও এসবগুলোর সমষ্টিই যেহেতু মানবজীবন তাই এদের মধ্যে অবশ্যই আন্ত:সম্পর্ক থাকতেই হবে।
যেমন- পুরো মানবদেহের অঙ্গগুলো আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কহীন বলে মনে হলেও হাত,পা, অন্ত্র, কিডনি ইত্যাদি গভীরভাবে পরস্পর সম্পর্কিত।
এ সম্পর্কে ছোটবেলায় আব্বুর বলা একটি কৌতুক মনে পড়ল। একবার নাকি হাত,পা বিদ্রোহ করল যে আমরা এত কষ্ট করে উপার্জন করি- আর পেট ব্যাটা বসে বসে খায়। আমরা কাল থেকে কাজ করবনা। যা ভাবা তাই কাজ। তারা কাজ করলনা। কয়েকদিন পর নিজেরাই দেখল হায়রে কোথায় আগের সেই হৃষ্টপুষ্ট হাত-পা! তার বদলে এখন যে হাত, পায়ের কোষগুলি শুকিয়ে একবারে মৃতপ্রায়!! পরে বেচারারা আবার কাজ শুরু করল।

কিন্তু এমন কোন মানুষ নেই যার এই সকল বিভাগগুলোর সার্বিক জ্ঞান আছে যা দিয়ে সে আইন রচনা করে বিভাগগুলোকে পরিচালনা করবে। এমন জ্ঞান আছে শুধু আল্লাহর। তিনি মানুষের স্রষ্টা তাই তিনিই জানেন এ জটিল ব্যাবস্থার (মানবমেশিন) জন্যে কি কি দরকার।

যুক্তি আসতে পারে, মানুষের একার সার্বিক জ্ঞান নেই ঠিক। কিন্তু যখন প্রতিটি ক্ষেত্রের সবার বুদ্ধি সমন্বিত করা হবে তখন নিশ্চয়ই একটা স্থিতিশীল আইন প্রণয়ন করা যাবে।

এর উত্তর হচ্ছে প্রথমত মানুষকে তো জানতে হবে তার এ জটিল শারীরিক অবস্থাকে। কিন্তু আমরা এটার কতটুকইবা জানি আমাদের এই জটিল শরীর ও শারীরিক ব্যাস্থাকে। এর পর রইল সামাজিক, রাষ্ট্রীয় দিক সমূহ।

দ্বিতীয়ত, মানুষকে আইন প্রণয়ন করতে দিলে সে ন্যায় ও ভারসাম্যপূর্ণ আইন রচনা করতে পারবেনা। কারণ তার আইনে থাকবে হিংসাও বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। (জাতিসংঘের কথাই ধরুন)
। তার নিজস্ব আইনে থাকবে তার নিজ-স্বার্থপরতার বহিঃপ্রকাশ, আরো কত কি। আরেকটি
কৌতুক বলার লোভ সামলাতে পারছিনা। হয়তো জানেনই।

এক গ্রাম্য চেয়ারম্যান ঘোষণা করল, "আগামী মাস থেকে এ গাঁয়ে যৌতুক নিষিদ্ধ"
জিজ্ঞেস করা হলো, ":এ মাস থেকে নয় কেন?"
উত্তর আসল, "এ মাসে যে আমার ছেলের বিয়ে!!"
এ হল মানবরচিত আইনের নমুনা।


তাই মানবজীবনের আইন রচনার ভার পড়া উচিৎ এমন এক সত্তার কাছে যিনি মানবের স্রষ্টা, মানবের ভালোমন্দ কিসে তা জানেন, মানবের জীবনের যত জ্ঞান-তত্বাদি দরকার তার পুরো ভান্ডার তার কাছে রয়েছে। যিনি হিংসুক নন, স্বার্থপর নন। যার সাথে কারো কোন ব্যক্তি-বিদ্বেষ নেই। তিনি হলেন আল্লাহ রাব্বুল আ'লামীন, রহমানুর রাহীম।

এ কারণেই নামাজ, রোজা নিছক কোন আচার-সর্বস্ব নিষ্প্রাণ অনুষ্টানাদি নয় বরং মানবজীবন গঠনের প্রশিক্ষণ, মূলমন্ত্র। আমরা আল্লাহকে না পাছে ভুলে যাই তা্ই দিনে পাঁচবার তাঁকে স্মরণ করি। আমাদের নামাজে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় মানবজীবন পরিচালনায় তাঁর আনুগত্যের গুরুত্ব, ভুল শোধরাবার গঠনমূলক কৌশল। স্মরণ করানো হয় তোমরা একই উৎস -আদম- হাওয়া থেকে সৃষ্ট। তাই স্বাভাবিক অবস্থায় সকলেই সমান। কেউ অধিক মর্যাদাবান হতে পারে শুধ সৎকাজ ও আল্লাহভীতির দ্বারা, কালো-সাদা বা ধনী গরীব হবার দ্বারা নয়।

আমরা আফ্রিকার জঘণ্য বর্ণবাদের কথা জানি। ইসলাম এর মূলে কুঠারাঘাত করে। মানুষে মানুষে সকল ভেদাভেদ দূরে ঠেলে দেয়। একইভাবে যাকাত, হজ্ব, রোজা কোনটাই কোন নিষ্প্রাণ আচার-সর্বস্ব অনুষ্ঠান নয়। এগুলোর প্রত্যেকটি মানবজীবনকে সুন্দর করে গড়ার প্রশিক্ষণ।

তবে কি আমরা ফরয সালাত আল্লাহর জন্য আর সুন্নাত সালাত রাসুল সা. এর জন্য পড়ি?-তোফাজ্জলের অদ্ভূদ ব্যাখ্যা

বিতর্কিত ওয়ায়েজ তোফাজ্জল হোসেন এর ওয়াজ শুনেন এমন এক বন্ধুর কাছে আজকে তার আরেক অদ্ভূদ কাহিনী শুনলাম। এক পীর নাকি তার মুরীদকে বলল ,'আজকে এশার নামায পড়োনা, পড়লে কিন্তু আমি জেনে ফেলব'। মুরীদ দোটানায় পড়ল। নামাযতো ফরয, আবার পীরের কথা! পরে সে বাসায় গিয়ে শুধু ফরযটুকু পড়ল। ফলে রাতে স্বপ্ন দেখল রাসুল সা. তাঁকে এসে বললেন, 'তুমি আমার সুন্নাত ছেড়ে দিলে?' পরদিন পীরও তাকে বলল ,'তুমি আমার কথা না শুনে ঠিকই সালাত পড়লে!! আর রাসুল সা. তোমাকে এই এই বললেন, তুমি যদি সুন্নাত না ছেড়ে ফরয ছাড়তে তবে স্বয়ং আল্লাহ স্বপ্নে দেখা দিতেন।'

সে সালাত ছাড়তে বলার কারণ জিজ্ঞেস করলে পীর বলল সেটা তুমি এখন বুঝবেনা, মারেফাতে পৌঁছলে বুঝবে!!!!
উনি বললেন মুরীদ যদি সুন্নাত না ছেড়ে ফরয ছাড়তো তবে স্বয়ং আল্লাহ স্বপ্নে দেখা দিতেন। তারমানে আমরা ফরয পড়ি আল্লাহকে খুশী করতে আর সুন্নাত পড়ি রাসুল সা. কে খুশী করতে??
কিন্তু কুরআন কি বলে??
(সুরা আন'আম ৬:১৬২)
قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّـهِ رَ‌بِّ الْعَالَمِينَ
আপনি বলুনঃ নিশ্চয়ই, আমার নামায, আমার কুরবানী এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে।
(সুরা কাউছার, ১০৮:২)
فَصَلِّ لِرَ‌بِّكَ وَانْحَرْ‌
অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন।

সুরা গাশিয়া (৮৮:২১-২২)
فَذَكِّرْ‌ إِنَّمَا أَنتَ مُذَكِّرٌ‌ ﴿٢١﴾ لَّسْتَ عَلَيْهِم بِمُصَيْطِرٍ‌
বেশ (হে নবী!) তাহলে তুমি উপদেশ দিয়ে যেতে থাকো। তুমি তো শুধু মাত্র একজন উপদেশক,
তাদের উপর তত্বাবধায়ক নন।

(সুরা আন'আম ৬:৭৯)
إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ‌ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْ‌ضَ حَنِيفًا ۖ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِ‌كِينَ
আমি তো একনিষ্ঠভাবে নিজের মুখ সেই সত্তার দিকে ফিরিয়ে নিয়েছি যিনি যমীন ও আসমান সৃষ্টি করেছেন এবং আমি কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।”

আমরা ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত সালাত সাওম বা যেকোন ইবাদত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যেই করি। রাসুল সা. তো আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন বাহক মাত্র। আর তাঁকে আমরা মানি আমাদের আল্লাহর প্রেরিত আদর্শ নেতা ও মানব হিসেব। তিনি আমাদের কাছে আল্লাহর বাণী ঠিকঠিকভাবে পৌঁছিয়েছেন, নিজে আল্লাহর বিধান শত জুলুম সহ্য করে বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে গেছেন ইত্যাদি কারণে আমরা তাঁকে পৃথিবীর সবকিছুর চাইতেও বেশি ভালোবাসি। কিন্তু আমাদের সবকাজের মূল উদ্দেশ্য শুধু এক আল্লাহরই সন্তুষ্টি অর্জন।

একজন হচ্ছেন মুনিব আরেকজন তাঁর দাস। দু'জন কোন দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে পারেননা।
(সুরা ইঊসুফ, ১২:৪০)
إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّـهِ
"আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই।"

এছাড়া আলোচ্য ঘটনায় পীর মুরীদের সালাতের খবর কীভাবে পেল? সেকি গায়েব জানে??
বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে। (সুরা নামল, ২৭:৬৫)

আর এটা কেমন পীরগীরি আর মুরীদি যেখানে ইসলামের প্রধান রুকন ছাড়ার আদেশ দেওয়া হয়।
অথচ কুরআন বলছে, "হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে কতৃত্বশীলদের তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম। "
কতৃত্বশীলদের আনুগত্য ততক্ষণ যতক্ষণ তারা আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ না করে। সীমা ছাড়াতে গেলেই আয়াতমতে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরে আসতে হবে।

এই তোফাজ্জল সাহেব বিভিন্ন উদ্ভদ কিসসা কাহিনীকে বজনপ্রিয় হবার জন্যে আকর্ষণীয় করে তুলে ধরছে। আগেও ব্লগে তাকে নিয়ে আব্দুল্লাহ শাহেদ ভাইসহ বিখ্যাত ইসলামী ব্লগারগণ আলোচনা করে তাকে বর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন।
সার্চ দিয়ে পেলাম ভাই ইসমাইল একেবি এর লেখা
বক্তা তোফাজ্জেলের আজগুবি ওয়াজ বিশ্লেষণ

সুন্নতের অনুসরণ

বর্তমানে বিভিন্ন ইসলামী দল বা গোষ্ঠী বলে থাকেন তারা রাসুলের সুন্নতের অনসরণ করেন। কেউ আবার অন্যদের বলেন," রাসুলের সুন্নতের সাথে আপনাদের এত বৈরিতা কেন? সুন্নত মানতে অসুবিধা কোথায়?" অন্যদিকে বিপরীত পক্ষেরও দাবী তারাই রাসুলের সুন্নতের যথাযথ অনুসারী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস সুন্নাত শব্দটির অর্থগুলোর সঠিক ব্যাবহারের অভাবে এ ভুলবোঝাবুঝি ও মতানৈক্য। আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের সংর্কীর্ণতা কাটাতে সুন্নতের অর্থ শিখে তিনটি অর্থ জেনেছি। 
১. হাদিস অর্থ্যাৎ রাসুলের (সা.) কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি 
২. ফিকাহশাস্ত্রে সুন্নত মানে হচ্ছে যা ফরজ কিংবা ওয়াজিব নয় তবে রাসুল সা. প্রায়ই তা করেছেন। 
ফিকহের ভাষায় সুন্নত করলে সওয়াব হবে তবে না করলে গুনাহ নেই। 
৩. সুন্নাত মানে আবার আদর্শ, রীতি-নীতি, পন্থা, পথ ইত্যাদি। 
সহজেই বোঝা যায় ৩য় ধরণের সুন্নত হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ১ম ধরণের সুন্নত বা হাদিস যেহেতু ইসলামরে ২য় উৎস হাদিস তাই সেটা পালন করা নির্ভর করবে হাদিসের গ্রহণযোগ্যতার উপর। 

কোন কোন গোষ্ঠী বলেন আমরা রাসুলের (সা.) সুন্নতের অনুসরণ করি। দুঃখের বিষয় বাস্তবে তারা ফিকহশাস্ত্রে সুন্নতের যে অর্থ সেই অর্থের সুন্নতকে বোঝেন এবং শুধু এ ধরণের কাজ কঠোরভঅবে পালন করেন।। অথচ আমাদেরকে মেনে চলতে হবে রাসুলের আদর্শ, মতবাদ যা তৃতীয় ধরণের সুন্নত। আর এ কারণেই দেখা যায় ঐসব লোক পান্জাবি, টুপি আর দাঁড়ি রেখেই সুন্নতের দাবী পূরণ করে ফেলেছেন বলে মনে করেন। পাশাপাশি অবশ্য খাওয়া, হাঁটাচলা ইত্যাদি কিছু বিষয়েও ২য় ধরণের সুন্নতকে কড়াকড়ি করে মেনে চলেন। এটা খারাপ হতোনা যদি এটা করে এটাকেই যথেষ্ট মনে করে রাসুলের মৌলিক আদর্শকে অবহেলা করা না হতো। 

তাই দেখা যায় যারা পান্জাবি, টুপি পরে সুন্নত মেনে ফেলেছেন বলে মনে করেন তারা জেনে বা না জেনে (আর ইসলামকে না জানলে তো মুসলিম হবার হকই আদায় হয়না) রাসুলের (সা.) আদর্শকে (যার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য ফরজ, ওয়াজিব) অবহেলা করেন। যেমন ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করা, ইসলাম বিরোধীদের প্রশ্রয় না দেওয়া, সামষ্টিক জীবনে ইসলামকে মেনে চলা, পুরুষদের পর্দা, বিভিন্ন কার্যোদ্ধারকল্পে ঘুষ প্রদান, যেনতেনভাবে ইনকাম ইত্যাদির ব্যাপারে রাসুলকে (সা.) হুবহু মেনে চলা। 

তাই আসুন প্রথমত রাসুলের আদর্শকে নিজেদের জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বানিয়ে নিই। কতিপয় সুন্নত আমলের মধ্যে নিজেদের সীমিত না করি উপরন্ত যা ফরজ ওয়াজিব পালনে আগ্রহ তৈরি করেনা। রাসুলের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সুন্নতও আমল করতে পারলে তো আলহামদুলিল্লাহ। কেউ করতে না পারলে (যেমন টুপি) তার নিন্দা না করি। 
বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসুল সা. সুন্নত বলে ফিকহের সুন্নত বোঝাননি বরং তার আদর্শ তথা সমাগ্রিক জীবনের রূপ বুঝিয়েছেন। যদি ফিকহের সুন্নত বোঝাতেন তাহলে এটা কি করে সম্ভব তিনি ফরজ ওয়াজিবের কথা না বলে সুন্নতের কথার প্রতি জোর দিবেন? 

শেষে একটি কথা বলি কেউ আবার বলেন, "মাথা থেকে পা পর্যন্ত সুন্নত মেনে চলতে হবে" 
আমি বলতে চাই বরং বলুন, "দিনরাত চব্বিশ ঘন্টাই সুন্নত তথা রাসুলের জীবনাদর্শ মানুন, তিনি তাঁর সারা জীবনে যতকিছু করেছেন তার কোন কিছু কাটছাট না করে"

রিপোর্ট: ৯১ ভাগ নারী যৌন হয়রানির শিকার,অন্যদিকে বোরকার অবমাননা চলছে

জনকণ্ঠের রিপোর্টে জানা যায় দেশে শতকরা ৯১ জন নারী যৌন হয়রানির শিকার। এর মধ্যে মেয়ে ও শিশুর সংখ্যা বেশি। অপমান সহ্য করতে না পেরে অনেকেই বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। ব্র্যাক ও আইন সালিশ কেন্দ্রের সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। 
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী দেশে ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মেয়ে যৌন হয়রানির শিকার হয়। এরমধ্যে ৩৬ শতাংশ মেয়েকে উত্ত্যক্ত করা হয় তাদের স্কুলের সামনে। আর দেশের প্রায় প্রতিটি মেয়েই কোন না কোনভাবে জীবনের কোন এক সময় যৌন হয়রানির শিকার হয়। ২০১০ সালে শুধু যৌন হয়রানির কারণে ৩২ জন আত্মহত্যা করে। ২০১১ সালে এ সংখ্যাটা ছিল ৩১ জন। আর এ বছরের মে মাস পর্যন্ত যৌন হয়রানির কারণে আত্মহত্যা করেছে ৮ জন। 
ব্র্যাকের একটি গবেষণায় বলা হয়, উত্ত্যক্তকরণ এবং যৌন হয়রানির কারণে উচ্চ শিক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের কোমলমতি মেয়েরা। অপমান সহ্য করতে না পেরে অনেকেই বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। পুরুষতান্ত্রিত মানসিকতা, সমাজে ও পরিবারে নারীদের অবমূল্যায়ন, নীতি নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়, কর্মহীন অলস মন, পারিবারিক শিক্ষার অভাব, আইনী দুর্বলতা (মাত্র ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদ-) সঙ্গে আইন প্রয়োগে অনীহা এবং প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ছাড়া দোষী সাব্যস্ত করতে না পারা, টিজিং-এর সঙ্গে যুক্তদের রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক সমর্থন এবং পৃষ্ঠপোষকতাকে যৌন হয়রানির অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করা হয়। যৌন হয়রানি বন্ধে শিক্ষার্থী, কিশোর- কিশোরী নিজে, অভিভাবক, শিক্ষক, সহপাঠী, বন্ধু, প্রতিবেশী, স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, নেতা, কমিশনার মেম্বার, চেয়ারম্যান, প্রশাসন ও পুলিশসহ সর্বস্তরে প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উদ্যোগ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার বলে প্রতিবেদনে সুপারিশ রাখা হয়।"" 

তারা তাদের প্রতিবেদনে অনেক সুপারিশ দিলেও আসল সমাধান হিজাব প্রচলনের সুপারিশ রাখেনি। বস্তুত মেয়েদের হিজাব পালন ও ছেলেদের কুরআনের নির্দেশ (তথা নারীদের দেখেলে খারাপ চিন্তাতো দূরের কথা দৃষ্টি নিচু রাখা) মেনে চলতে উদ্ধুদ্ধ করা ও কুরআনী আইন বাস্তবায়নই এ সমস্যার একমাত্র সমাধান।

পরকাল নিয়ে বিভ্রান্তি-কুরআন, যুক্তি ও বিজ্ঞান কি বলে?


হুমায়ূন আহমেদের যে কয়টা বই পড়েছিলাম (অনেক আগে পড়েছি, আর পড়বার নিয়ত নেই) তাতে তখনও বুঝতাম উনি গল্পের মাঝে মাঝে কৌশলে ইসলামকে কটাক্ষ করেন। তবে সেদিন যায়যায়দিনের সাক্ষাৎকারে সম্ভবত প্রথমবারের মত সরাসরি পরকালকে অস্বীকার করলেন। 
এ অস্বীকার করাটা বুদ্ধিমত্তা ও বিজ্ঞানমনস্ককতার পরিচায়ক কিনা একটু দেখি আসুন। 
তার দাবী মরে গেলে তো মাটির সাথে মিশে যাব। আবার কেন কীভাবে সৃষ্ট হতে হবে। 
এ প্রশ্নটাই করত মক্কার মুশরিক কাফিররা। 
আল্লাহ বলেন (সুরা ক্বিয়ামা, ৭৫:৩-৪) 
أَيَحْسَبُ ٱلْإِنسَـٰنُ أَلَّن نَّجْمَعَ عِظَامَهُۥ ﴿٣﴾ بَلَىٰ قَـٰدِرِينَ عَلَىٰٓ أَن نُّسَوِّىَ بَنَانَهُ 
"মানুষ কি মনে করে যে আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করব না? পরন্ত আমি তারঅঙ্গুলির অগ্রভাগ পর্যন্ত সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম।" 
এখানে আল্লাহ এক ঢিলে অন্তত দুটি পাখি মেরেছেন। বলেছেন সমগ্র শরীরতো সন্নিবেশিত করবেনই আংগুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত পুনরায় সন্নিবেশিত করবেন। আবার আঙ্গুলের অগ্রভাগের বিশেষ বৈশিষ্ট্যও পরোক্ষভাবে তুলে ধরেছেন। সতেরাশত শততের দিকে আবিষ্কৃত হওয়ায় এখন আমরা জানি এমন দুজন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুঃসাধ্য যাদের আঙ্গুলের অগ্রভাগের বৈশিষ্ট্য, গড়নবিন্যাস সমপ্রকৃতির। 
যাইহোক, এখানে আল্লাহ তাঁর ক্ষমতার উল্লেখ করলেন। 

সুরা নাযিআত (৭৯, ২৭-২৮) 
أَنتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ ٱلسَّمَآءُ ۚ بَنَىٰهَا ﴿٢٧﴾ رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّىٰهَا 
"তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন না আকাশের, যা তিনি নির্মাণ করেছেন? তিনি একে উচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন। " 
বস্তুতই মানুষের গঠনকাঠামোতো মহাবিশ্বের তুলনায় সরল। এবার হয়তো উনি বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে গিয়ে বলে বসবেন আকাশতো কেউ সৃষ্টি করেনি, এমনিই হয়ে গেছে যে দাবীটা তাপগদতিবিদ্যার সাথে সাংঘর্ষিক। 

সুরা ইসরা (১৭: ৯৮-৯৯) 
ذَٰلِكَ جَزَآؤُهُم بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَـٰتِنَا وَقَالُوٓا۟ أَءِذَا كُنَّا عِظَـٰمًا وَرُفَـٰتًا أَءِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا ﴿٩٨﴾ أَوَلَمْ يَرَوْا۟ أَنَّ ٱللَّـهَ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ قَادِرٌ عَلَىٰٓ أَن يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ وَجَعَلَ لَهُمْ أَجَلًا لَّا رَيْبَ فِيهِ فَأَبَى ٱلظَّـٰلِمُونَ إِلَّا كُفُورًا 
"এটাই তাদের শাস্তি। কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছে এবং বলেছেঃ আমরা যখন অস্থিতে পরিণত ও চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে যাব, তখনও কি আমরা নতুনভাবে সৃজিত হয়ে উত্থিত হব? 
তারা কি দেখেনি যে, যে আল্লাহ আসমান ও যমিন সৃজিত করেছেন, তিনি তাদের মত মানুষও পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম? তিনি তাদের জন্যে স্থির করেছেন একটি নির্দিষ্ট কাল, এতে কোন সন্দেহ নেই; অতঃপর জালেমরা অস্বীকার ছাড়া কিছু করেনি।" 

সুরা নাহল (১৭, ৩৮-৩৯) 
وَأَقْسَمُوا۟ بِٱللَّـهِ جَهْدَ أَيْمَـٰنِهِمْ ۙ لَا يَبْعَثُ ٱللَّـهُ مَن يَمُوتُ ۚ بَلَىٰ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٣٨﴾ لِيُبَيِّنَ لَهُمُ ٱلَّذِى يَخْتَلِفُونَ فِيهِ وَلِيَعْلَمَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَنَّهُمْ كَانُوا۟ كَـٰذِبِينَ 
"তারা আল্লাহর নামে কঠোর শপথ করে যে, যার মৃত্যু হয় আল্লাহ তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন না। অবশ্যই এর পাকাপোক্ত ওয়াদা হয়ে গেছে। কিন্তু, অধিকাংশ লোক জানে না। তিনি পুনরুজ্জীবিত করবেনই, যাতে যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতানৈক্য ছিল তা প্রকাশ করা যায় এবং যাতে কাফেরেরা জেনে নেয় যে, তারা মিথ্যাবাদী ছিল।" 

সুরা মারইয়াম (১৯, ৬৬-৬৮) 
وَيَقُولُ ٱلْإِنسَـٰنُ أَءِذَا مَا مِتُّ لَسَوْفَ أُخْرَجُ حَيًّا ﴿٦٦﴾ أَوَلَا يَذْكُرُ ٱلْإِنسَـٰنُ أَنَّا خَلَقْنَـٰهُ مِن قَبْلُ وَلَمْ يَكُ شَيْـًٔا ﴿٦٧﴾ فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَٱلشَّيَـٰطِينَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا 
"মানুষ বলেঃ আমার মৃত্যু হলে পর আমি কি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব? মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে ইতি পূর্বে সৃষ্টি করেছি এবং সে তখন কিছুই ছিল না।সুতরাং আপনার পালনকর্তার কসম, আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রে সমবেত করব, অতঃপর অবশ্যই তাদেরকে নতজানু অবস্থায় জাহান্নামের চারপাশে উপস্থিত করব।" 

সুরা আম্বিয়া (২১:১০৪) 
يَوْمَ نَطْوِى ٱلسَّمَآءَ كَطَىِّ ٱلسِّجِلِّ لِلْكُتُبِ ۚ كَمَا بَدَأْنَآ أَوَّلَ خَلْقٍ نُّعِيدُهُۥ ۚ وَعْدًا عَلَيْنَآ ۚ إِنَّا كُنَّا فَـٰعِلِينَ 
"সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেমন গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র। যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। আমার ওয়াদা নিশ্চিত, আমাকে তা পূর্ণ করতেই হবে।" 

সুরা রূম (৩০:১৯) 
يُخْرِجُ ٱلْحَىَّ مِنَ ٱلْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ ٱلْمَيِّتَ مِنَ ٱلْحَىِّ وَيُحْىِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ وَكَذَٰلِكَ تُخْرَجُونَ 
তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বহির্গত করেন জীবিত থেকে মৃতকে বহির্গত করেন, এবং ভূমির মৃত্যুর পর তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন। এভাবে তোমরা উত্থিত হবে।" 

সুরা ফাতির (৩৫:৯) 
وَٱللَّـهُ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ ٱلرِّيَـٰحَ فَتُثِيرُ سَحَابًا فَسُقْنَـٰهُ إِلَىٰ بَلَدٍ مَّيِّتٍ فَأَحْيَيْنَا بِهِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ كَذَٰلِكَ ٱلنُّشُورُ 
আল্লাহই বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর সে বায়ু মেঘমালা সঞ্চারিত করে। অতঃপর আমি তা মৃত ভূ-খন্ডের দিকে পরিচালিত করি, অতঃপর তদ্বারা সে ভূ-খন্ডকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করে দেই। এমনিভাবে হবে পুনরুত্থান। 

কুরআনের পাতায় আরো অসংখ্য বলিষ্ঠ যুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাতে কি! অন্ধ, বোবা, কালারা সেগুলো পড়লেতো! 

পরকালের ধারণার অভাবেই মানুষ একে অপরের নির্বিচারে অত্যাচার চালাতে পারে, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই চলে সমানে। অথচ পরকালের ধারণা যদি পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষ রাখত তাহলে মানুষ দরজা খুলে রেখে ঘুমাতে পারত। কোন তালার দরকার হতোনা। কেউ কারো প্রতি বিন্দুমাত্র অন্যায় করার আগে পরকালের কথা ভেবে থেমে যেত। 
যুক্তিটা এখানেই। পৃথিবীকে সুশোভিত, শান্তিপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হলে মাথায় থাকতে হবে এ জগতে যাই করিনা কেন তার কড়ায়গন্ডায় প্রতিফল পরকালে ভোগ করতে হবে।
সুরা জাছিয়া (৪৫:২১-২২) 
أَمْ حَسِبَ ٱلَّذِينَ ٱجْتَرَحُوا۟ ٱلسَّيِّـَٔاتِ أَن نَّجْعَلَهُمْ كَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ سَوَآءً مَّحْيَاهُمْ وَمَمَاتُهُمْ ۚ سَآءَ مَا يَحْكُمُونَ ﴿٢١﴾ وَخَلَقَ ٱللَّـهُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ بِٱلْحَقِّ وَلِتُجْزَىٰ كُلُّ نَفْسٍۭ بِمَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ 
"যারা দুস্কর্ম উপার্জন করেছে তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সে লোকদের মত করে দেব, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং তাদের জীবন ও মুত্যু কি সমান হবে? তাদের দাবী কত মন্দ। আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার উপার্জনের ফল পায়। তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।" 
দুনিয়ায় যেহেতু পরীক্ষা চলছে সবাই যা ইচ্ছা করতে পারে কিন্তু তাই বলে কারো প্রতি জুলুম করে বসলে পরকালে রেহাই নেই। 

পুরো মানবদেহকে একটা সচল কম্পিউটারের মত তুলনা করা যায় যাতে শরীরটা হল হার্ডওয়্যার আর রুহ হলো সফটওয়্যার। যখন শরীর নষ্ট হবে তার আগেই আল্লাহ রূহটাকে [যেমন পেনড্রাইভে করে ] রূহের জগত নামক অকল্পনীয় বিশাল স্টোরে সংরক্ষণ করে রাখবেন। হাশরের সময় পুনরুথান হলেই আবার নতুন করে শরীর গঠন করে সফটওয়্যার আবারো ইনস্টল করে দিবেন। 
প্রশ্ন করি কারো পিসি নষ্ট হলেই কি নতুন করে আর সেটআপ দেওয়া যাবেনা?
পোস্টটি দেওয়ামাত্রই এসবির প্রথম পাতা থেকে সরানো হয়।

মুসলিমদের জাগতিক জ্ঞানার্জন করা কি পাপ?

কয়েকদিন আগে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম প্রোগ্রামিং এর ধারণা আল্লাহর অস্তিত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছে। সেখানে আমি মূলত বোঝাতে চেয়েছি বিভিন্ন প্রাকৃতিক সূত্র এককথায় মহাবিশ্বের যত সৃষ্টি এগুলো সবই স্রষ্টার সাক্ষ্য বহন করে। অর্থ্যাৎ একজন বুদ্ধিমান লোক যদি খোলামন নিয়ে এগুলো পর্যবেক্ষণ করে তবে সে স্রষ্টার অস্তিত্ব উপলদ্ধি করবে। একজন মন্তব্য করলেন- 


প্রথমেই উনি বললেন জ্ঞান বিজ্ঞান ইহুদী নাসারাদের সম্পদ। অথচ আধুনিক বিজ্ঞানের সূচনা করেছে ইসলামই। যখন ইউরোপের পড়তে জানা মানুষকে হাতে গোণা যেত তখনও মুসলিম স্পেনের প্রত্যেক মুসলিমের বাড়িতে ছিল বিভিন্ন বিষয়ের উপরে লিখিত সমৃদ্ধ লাইব্রেরী। কারণ তখন মুসলিমরা কুরআনরে সকল বিধান মেনে চলত আর তাই মানত তার প্রথম বাণীও অর্থ্যাৎ "পড় তোমার রবের নামে" (৯৬:১)। জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতি অনীহাও অন্যতম কারণ যা মুসলিমদের আজ পেছনে ফেলে রেখেছে। 

এরপর বললেন আর এইসব প্রোগ্রাম, কম্পিউটার বিদ্যা হইল ইহুদি নাসারাদের সৃষ্টি। অথচ উনি সেই নাসারাদের কম্পিউটার ব্যাবহার করেই মন্তব্য করেছেন। এছাড়াও প্রতিদিন উনিসহ সবাই "নাসারাদের অসংখ্য তৈরি জিনিস ব্যাবহার করেন। কথা হচ্ছে কোন জিনিস কার সৃষ্টি সেটা মূখ্য নয়। দেখতে হবে সেটার ব্যাবহার শরীয়াত অনুমোদন করে কিনা। এজন্যেই অমুসলিমদের তৈরি বিমানও আপনি ব্যাবহার করতে পারবেন কিন্তু কোন মুসলিমও যদি সিনেমা হল বানায় (আল্লাহ মাফ করুন) আপনি কি সিনেমা দেখবেন? 

এরপর বললেন সহীহ ইল্মের তা'লিমের পেছনে ওয়াক্ত গুজার করিবার জন্য সকল কে আহবান জানাই, কারণ ইনসানী হায়াত খুবই সীমিত, এই সময়ের মধ্যে একজন মানুষের পক্ষে তামাম ফিকহ শাস্ত্রের তা'লিম লইবারই সুযোগ ঘটেনা, আর প্রোগ্রামিং এর তা'লিম লইবার ওয়াক্ত কই বলুন? 
ইলম মানেই ধর্মীয় জীবন যাপনের জন্যে নিছক কিছু সুরা ক্বেরাত ও দোয়া কালাম নয়। একজন মুসলিম যে যেই পেশায় নিয়োজিত আছেন বা যে ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে পড়াশোনা করেছেন তাকে সেই জ্ঞান কাজে লাগাতে হবে ইসলাম প্রচারের জন্যে, নিছক ইনকাম করবার জন্যে নয়। ফিকই শাস্ত্রের তালিম লওয়ার ব্যাপারে বলি- এটা সকল মুসলমানের জন্যে ফরজ নয় যে সবাই একজন করে মুফতি হয়ে যাবেন। হ্যাঁ, প্রত্যেককেই মুসলিম হিসেবে জীবন যাপন করার জন্যে যতটুকুক প্রয়োজন তাতো জানতে হবেই। যেমন যার হজ্ব করা ফরজ তিনি হজ্বের নিয়মাবলী জানতে হবে। কিন্তু যাপর উপর হজ্ব ফরজ নয় তার জন্যে হজ্বের নিয়ম জানা ফরজ নয়। একইভাবে অবিবাহিতের জন্যে ,দম্পিত্যবিষয়ক, তালাকের নিয়ম জানা জরুরী নয়। 

তাই ন্যূনতম জ্ঞান অর্জনের পরে চাইলে কেউ ফকীহও হতে পারেন কিন্তু তার জন্য দাওয়াত দেওয়া ফরজ সেটা যদি মিস হয় মুফতি হলেও আল্লাহ মাফ করবেনা। এজন্যেই প্রত্যেক মুসলিমকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দাওয়াতী কাজ করার জন্যে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের জ্ঞান শিখা এবং তা প্রয়োগ করে আল্লাহর দিকে ডাকা কোন বেহুদা কাজ নয়। 

এরপরে বলেন জীবন তো অতি সামান্য। হ্যাঁ অবশ্যই। তার মানে কি এই যে পৃথিবীর সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাজ করতে হবে? বরং আল্লাহর দেওয়া প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পালন করতে হবে। জীবনের সকল পর্যায়ে ইসলামকে প্রতিষ্টিত করার দায়িত্ব এ স্বল্প জীবনে যতদিন বেঁচে থাকি করে যেতে হবে। 
রাসুল সাঃকে যখন নবুওয়্যাত দেওয়া হলো তখন তিনি তো সাথে আরো কয়জন নিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাজ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি যথার্থই প্রতিনিধি হলেন। যখন তাঁকে লোভ দেখিয়ে থামতে বলা হলো তিনি বললেন হয় আমি এ কাজে বিজয়ী হবো নয়তো এ কাজ করতে্ করতেই নিজকে শেষ করে দেবো। 

পরিশেষে বলি আল্লাহ নিজেই কুরআনে বিভিন্ন বিভাগের জ্ঞানীদেরকে বুঝানোর জন্যে বিজ্ঞানের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। যেমন (সুরা হাজ্জ,২২:৫
"হে লোকসকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দিগ্ধ হও, তবে (ভেবে দেখ-) আমি তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্যে। আর আমি এক নির্দিষ্ট কালের জন্যে মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই, এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি; তারপর যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌছানো হয়, যাতে সে জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান থাকে না। তুমি ভূমিকে পতিত দেখতে পাও, অতঃপর আমি যখন তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন তা সতেজ ও স্ফীত হয়ে যায় এবং সর্বপ্রকার সুদৃশ্য উদ্ভিদ উৎপন্ন করে।" 
এছাড়াও (সুরা আলে ইমরান, ৩:১৯০) 
নিশ্চয় আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধ সম্পন্ন লোকদের জন্যে। 
{কেউ দ্বিমত করতে চাইলে নিজস্ব মতের ভিত্তিতে করলে চলবেনা। কুরআন হাদিসের দলিলের ভিত্তিতে হতে হবে}

আলেমদের সমালোচনা: প্রসঙ্গ মাওলানা মওদুদী

১। ইসলামে সমালোচনার বিধান: ইসলামে গঠনমূলক সমালোচনা বা ইহতিসাবকে অবশ্যই উৎসাহ দেওয়া হয়। কারণ কোন মানুষেরই একার পক্ষে সকল দিক বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।আমরা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতে পড়ার মাধ্যমে ইমাম ভুল করে ফেললে শুধরে দেবার মাধ্যমে অন্যান্য প্রশিক্ষণের সাথে সাথে এটাও শিখি যে বাস্তব জীবনেও কেউ ভুল করে থাকলে সেটা নিয়মতান্ত্রিকভাবে শুধরে দিতে হবে। 

এজন্যই হযরত আবু বকর রা. খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে বলেছিলেন- “আপনারা যদি চান আমার আচরণ রাসুল সা. এর মত হোক তাহলে আমাকে সেই পর্যায়ে পৌঁছার ব্যাপারে অক্ষম মনে করবেন। তিনি ছিলেন নবী। ভুল ত্রুটি থেকে তিনি ছিলেন পবিত্র। তাঁর মত আমার কোন বিশেষ মর্যাদা নেই।……আপনারা যদি দেখেন আমি সঠিক কাজ করছি তাহলে সহায়তা করবেন আর যদি দেখেন বিপথগামী হচ্ছি তাহলে সতর্ক করে দেবেন” 
তবে অন্যতম শর্ত হচ্ছে যে ব্যাপারে সমালেচনা হচ্ছে আগে সেই ঘটনার বিস্তারিত প্রসঙ্গ ও পটভূমি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে যাচাইবাছাই করতে হবে। 
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَن تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِي 
“মুমিনগণ ,তোমাদের কাছে যখন কোন পাপাচারী কোন সংবাদ নিয়ে আসবে তখন তা যাচাই করে দেখবে যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও” -(সুরা হুজুরাত ৪৯:৬) 

২। সমালোচনার নামে মিথ্যারোপের বিধান: 
সুরা ফুরকানের ৬৩ নং আয়াতে রহমানের বান্দাদের গুণাবলী বর্ণনা শুরু করে ৭২ নং আয়াতে বলা হয়েছে- 
وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ‌ وَإِذَا مَرُّ‌وا بِاللَّغْوِ مَرُّ‌وا كِرَ‌امًا 
”এবং যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়না এবং যখন অসার ক্রিয়াকর্মের সম্মুখীন হয়, তখন মান রক্ষার্থে ভদ্রভাবে চলে যায়। ”(সুরা ফুরকান, ২৫:৭২) 
রাসুল সা. বলেছেন-“আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় গুনাহ সম্পর্কে অভিহিত করবনা? তা হল আল্লাহর সাথে শিরক করা, মাতাপিতার অবাধ্য হওয়া, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা।” (বুখারী) 

৩।মাওলানা মওদুদীর উপর মিথ্যারোপের দৃষ্টান্ত: সাহাবীদের কুৎসা, ইব্রাহীম আ. কে শিরকের অপবাদ দেওয়া, কুরআনের তাফসীরে যা মনে আসে তা লিখে দেওয়া, নবীদের নিষ্পাপ বলে স্বীকার না করা ইত্যাদিসহ তাঁর বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যারোপ করা হয়েছে। যারা করেছেন তারা সম্ভবত দ্বীনি খেদমত(!) মনে করে করেছেন। প্রশ্ন হলো দ্বীন কি কাউকে ফাঁসানোর স্বার্থেও মিথ্যারোপের অনুমতি দেয়? 
এখানে “মনগড়া” তাফসীর করা নিয়ে দু’কথা বলতে চাচ্ছি। অভিযোগকারীদের আপত্তি হলো মাওলানা মওদুদী তাফহীমুল কুরআনের ভূমিকাতেই লিখেছেন, “ বরং কুরআন পড়ে আমার যা মনে এসেছে, তাই লিখে দিয়েছি” 
“ 
এই অধমেরও তাফহীমের ভূমিকাটুকু পড়বার সুযোগ হয়েছে। ফলে বুঝতে পারলাম কীভাবে একটা পুরো বাক্যকে কেটে নিজেদের মত সাজিয়ে একাংশ উদ্ধৃত করা হলো। 

তাফহীমুল কুরআনের বৈশিষ্ট্য: (সত্যপন্থীদের মূল কিতাব থেকে পড়ে নেবার জন্য আকুল আবেদন করছি) *তৎপূর্ব তাফসীরগুলো লেখা হয়েছিল শুধু আলেম সমাজের জন্য সঙ্গতিপূর্ণ করে। ফলে ইসলাম সম্প্রসারিত হলে সাধারণ মানুষের পক্ষে কুরআন বুঝা সহজ ছিলনা। অথচ কুরআন ও হযরত মুহাম্মাদ সা. সমগ্র মানবজাতির জন্যই প্রেরিত (২:১৮৫, ৩৪”২৮ ইত্যাদি) 
*এছাড়া কুরআনের শুধু অনুবাদ বা জটিল তাফসীর পড়লে সাধারণ মানুষ যেমন বোঝেনা তেমনি অমুসলিমরা মর্মার্থ না বুঝে কুরআনের ঘাড়ে দোষ চাপায়। (কেউ অবশ্য বিদ্বেষপ্রসুত হয়েই করে) 

ভুল বোঝার আরেকটা কারণ কুরআনের প্রত্যেকটি আয়াত নাজিল হয়েছিল নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটকে ঘিরে। তাই কুরআন বুঝতে হলে আয়াতগুলো নাজিলের পেক্ষাপটও বুঝতে হবে। যেমন সুরা তাওবার সেই বিখ্যাত আয়াত-৫, যেটাকে নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়, সুরা মু’মিনুনের প্রধম রুকু ইত্যাদি। একমাত্র কারণ প্রেক্ষাপটকে অবহেলা করা। 

*এছাড়া কুরআনের আয়াতগুলো তো নাজিল হয়েছিল ভাষণ আকারে। তাই পথনির্দেশ পেতে হলে এখনও বিভিন্ন ভাষণকে নির্দিষ্ট করে ভাষণকেন্দ্রিকভাবে পড়লে কুরআনের মর্মার্থ সহজেই বুঝে আসবে। 
*কুরআনের অনুবাদ পড়তে আরেকটা অসুবিধা হল শাব্দিক অনুবাদ। বিভিন্ন শব্দের শাব্দিক অনুবাদ করে অন্য ভাষায় অনুবাদ করা হলে যে মূল ভাষার সৌন্দর্য্য ও মর্ম সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা যায়না এটা সকলেই জানেন।মূলত অনবাদ করার ক্ষেত্রে এটাই নিয়ম যে অনুবাদক মূল ভাষা পড়ে যে কথাটা বুঝতে পারলেন অন্য ভাষায় ভাষান্তরের সময় ঠিক সেই কথাটিই সেই ভাষার শব্দ দিয়ে গেঁথে দিতে হবে। এ জন্য যদি প্রতিশব্দকে অবহেলাও করতে হয় তবুও বাক্যের মূল ধারা বজায় রাখবার জন্য উপযুক্ত শব্দই ব্যাবহার করাই বাঞ্চনীয়। 

মাওলানা মওদুদী এটাই করেছেন। শাব্দিক অনুবাদ না করে আরবী কুরআন পড়ে যেটা বুঝতে পারলেন সেটাই অন্য ভাষায় ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন।আর এ কথাই বলেছেন। কথাটা হলো- 
”শাব্দিক অনুবাদের এই ত্রুটি ও অভাবগুলো দূর করার জন্য আমি মুক্ত ও স্বচ্ছন্দ অনুবাদ ও ভাবার্থ প্রকাশের পথ বেছে নিয়েছি। কুরআনের শব্দাবলীকে ভাষান্তরিত করার পরিবর্তে কুরআনের একটি বাক্য পড়ার পর তার যে অর্থ আমার মনে বাসা বেঁধেছে এবং মনের উপর তার যে প্রভাব পড়েছে, তাকে যথাসম্ভব নির্ভুলভাবে নিজের ভাষায় লেখার চেষ্টা করেছি।” 
উল্লেখ্য, তিনি কুরআনকে নিজের মত করে সাজিয়ে লেখেননি। কুরআনের অনুবাদকে মানুষের বোঝার মত করে লিখতে সচেষ্ট হয়েছেন। 
যারা শুধু এটা উদ্ধৃত করেন, ”বরং কুরআন পড়ে আমার যা মনে এসেছে, তাই লিখে দিয়েছি” তারা আংশিক উদ্ধৃত করেন কি উদ্দেশ্যে? তারা কি এখানে তাঁকে ফাঁসাতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিচ্ছেননা? 
এরপর মাওলানা মওদুদী আরো লেখেন- “আমার পক্ষ থেকে যতদূর সতর্কতা অবলম্বন করা সম্ভব তা করেছি। কুরআন তার বক্তব্যকে নিজের ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষেত্রে যতটুকু স্বাধীনতা দেয় তার সীমা অতিক্রম করার চেষ্টা করিনি” 
সত্যপন্থী ও নিরপেক্ষ পাঠকদেরকে অনুরোধ করব আপনারা ঐ ভূমিকাটুকু খোলামন নিয়ে বিস্তারিত পড়বেন। এরপর আপনারাই সিদ্ধান্ত নেবেন। 

সমালোচনার জবাব দেওয়া কি অন্ধ-অনুসরণের ফল?: 
অভিযোগকারীদের আরেকটি দাবী হলো কোন মহল মওদুদীকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে। এর স্বপক্ষে তাদের যুক্তি হলো যখনই মওদুদীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উঠে তখনই তারা সেটা খন্ডনে উঠেপড়ে লাগে। আসল কথা হলো কোন মুসলিমের বিরুদ্ধে কোন মিথ্যারোপ করা হলে সেটার যৌক্তিক জবাব দেওয়া প্রত্যেক মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব। মাওলানা মওদুদীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও যদি সেটার আনুগত্য করা হত তবে অন্ধ-অনসরণের কথা তোলা যেত।বস্তুনিষ্ঠভাবে চিন্তা করে আমি যা পেলাম, মওদুদীর অন্ধ-অনুসরণকারী নয় অন্ধ-বিরোধীর সংখ্যাই প্রচুর। 

মওদুদীর গবেষণা কর্ম সত্যপন্তী মানুষকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করেছে। এ সত্যকে স্বীকৃতি দেওয়া আর অন্ধ অনুসরণ এক কথা নয়। অন্ধ-অনুসরণ হত যদি সঠিক কোন অভিযোগকে স্বীকার না করা হত। যে অভিযোগের ভিত্তি হচ্ছে বিদ্বেষপ্রসূত আংশিক উদ্ধৃতি সেটাকে খন্ডন করার চেষ্টাকে অন্ধ-অনুসরণ মোটেই বলা যায়না। 
ফিকহের ব্যাপারেও তো তিনি অনেক মাসয়ালা দিয়েছেন। জামায়াত কি সেগুলোই অন্ধভাবে মেনে চলে? তাহলে কি করে এ আপত্তি করা যায়? 

মওদুদীর ব্যপারে জামায়াতের মনোভঙ্গি: তাঁর ব্যপারে জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে হলে কোন ব্লগার, বা অন্য কারো কথার উপর নির্ভর করা অনুচিত। আমরা অধ্যাপক গোলাম আযমের কথা থেকে দৃষ্টিভঙ্গিটা পেতে পারি। ইকামাতে দ্বীন গ্রন্থের ৮২ নং পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন- “তাঁর অগণিত পাঠক পাঠিকা দেশে বিদেশে ছড়িয়ে আছে। যিনি এত কিছু লিখেছেন তাঁর লেখায় কোন ভুল ত্রুটি থাকা অস্বাভাবিক নয়। যারা জ্ঞান চর্চায় নিযুক্ত তারা যুক্তি প্রমাণের ভিত্তিতে তার লেখার সমালোচনা করলে দ্বীনের অবশ্যই উপকার ও খেদমত হবে” 
অর্থ্যাৎ বস্তুনিষ্ঠ ও যৌক্তিক সমালোচনা করলে জামায়াত তা মেনে নিতে প্রস্তুত। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কারো বিরুদ্ধে ব্যক্তি আক্রোশ মেটানো কেমন কাজ? 

অন্ধ-অনুসারী নাকি অন্ধ-বিদ্বেষী? 
পূর্বেই দেখিয়েছি জামায়াত অন্ধ-অনুসারী নয়। বরং বিভিন্ন সময় দেখা গেছে তাঁর বিরুদ্ধে আরোপিত অভিযোগ অকাট্যভাবে খন্ডন করার পরেও কতক মুসলিম নিজেদের আংশিক-উদ্ধৃতিতেই অটল আছেন। তাহলে কি বুঝা গেল? অন্ধ-অনুসরণ নাকি অন্ধ-বিদ্বেষ? ভুল করে থাকলে তো প্রত্যেক মুসলিমের উচিত ভুলের স্বীকৃতি দেওয়া ও সত্যকে অকুণ্ঠচিত্তে মেনে নেওয়া। 

তথাকথিত সমালোচকদের ইসলাম-প্রেম: ব্লগে তাদের অনেককেই দেখা যায় নাস্তিক বলে বহুল পরিচিতদের সাথে গলায় গলায় ভাব। নিজেদের পোস্টে নাস্তিকদের মন্তব্য পেয়ে তারা খুশিতে গদগদ হয়ে নাস্তিকদের মোবারকবাদ জানাতে থাকেন। এদেরকে নাস্তিকদের ইসলাম-বিদ্বেষী পোস্টে তেমন কোন অবস্থান নিতেও দেখা যায়না। অতীতেও দেখা গেছে যারা মাওলানার বিদ্বেষপ্রসূত সমালোচনা করেছেন তারা পরবর্তীতে হাদিছ-অস্বীকারকারী ইত্যাদি রূপে পরিচিত হয়েছেন। 
মাওলানা মওদুদী কি তাঁকে অন্ধ-অনুসরণ করতে বলেছেন? 
তিনি ১৯৪১ সালে জামায়াতের আমীর নির্বাচিত হলে জামায়াতকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেন যেন তাঁর কোন কথাকে অন্ধ-অনুসরণ করা বা মাপকাঠি হিসেবে না মানা হয়। 
প্রাসঙ্গিক পোস্ট: ডা. জাকির নায়েক ও মাওলানা মওদুদীর সমালোচনা। পরিণতি কী???? 


কুরআনে বিজ্ঞান: আবিষ্কার(discovery) না উদ্ভাবন(invention) : প্রসঙ্গ- বিগব্যাঙ

আল কুরআন। সুরা আম্বিয়া (২১:৩০)

أَوَلَمْ يَرَالَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ
 
অর্থ:
অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে, অতঃপর আমি উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না

বস্তুত এ আয়াতে অতিসংক্ষেপে মহাবিশ্ব সৃষ্টির বর্ণনা দেওয়া আছে। নেটে
ইসলামের অন্যতম কুৎসাকারী আলী সিনার (পাতানো নাম) মতে এখানে বিগব্যাংগ এর কথা খুঁজে পাওয়া নাকি হাস্যকর। তার মতে পৃথিবী সমগ্র মহাবিশ্বের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ। বলা হলো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী একসাথে মিশে ছিল পরে বিচ্ছিন্ন করা হলো- এ তুলনা কীভাবে হতে পারে? পুরো আকাশমন্ডলীর সাথে পৃথিবীর তুলনা কি করে হয়? যেখানে এক অংশ সুবিশাল এবং অপর অংশ সে তুলনায় অবিবেচ্য।

খন্ডন: 
১.কল্পনা করা যাক, এমন একটা বিশাল দেশ (ধরা যাক ) আছে যেখানে সর্বত্র নৈরাজ্য, হানাহানি, গৃহযুদ্ধ চলছে। পরে এই দেশের একটি ক্ষুদ্র অংশ () নিজেকে স্বাধীন করে ঐ বিশাল অংশ থেকে আলাদা হয়ে গেল। পরবর্তীতে এটা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত হল। কিন্তু বিশাল দেশটির অবশিষ্টাংশ এখনো নৈরাজ্যে ভরপুর। কোন শান্তিকামী মানুষ সেখানে বাস করতে চাবেনা।
এ প্রেক্ষাপট থেকে কি বলা যাবেনা যে
প্রথমে যুক্ত ছিল পরে বিভক্ত হয়ে গেল?
বলা যাবে কারণ ক আয়তনে বড় ঠিকই কিন্তু গুরুত্বে ও তাৎপর্যে বড় হচ্ছে খ। ফলে খ ই বেশি নজরকাড়া ও বিবেচনাপূর্ণ।

এখন পর্যন্ত জানা তথ্য মতে পৃথিবী মহাবিশ্বের একমাত্র বসবাসোপযোগী গ্রহ। সমগ্র মহাবিশ্বের তুলনায় আয়তনে এটা তুচ্ছ বটে তবে সুশৃংখ্যলতা, বসবাসোপযোগীতা ইত্যাদি দিক দিয়ে এটা সমগ্র মহাবিশ্বের চেয়েও বেশি তাৎপর্যের
দাবীদার। 

পৃথিবী এমনই এক ভারসাম্যপূর্ণ স্থানে আছে যদি বুধ বা শুক্রের মত সূর্য্য থেকে আরেকটু কাছে থাকত তবে অত্যাধিক গরমের কারণে আর কিছুটা দূরে হলে মঙ্গলের (ইত্যাদি) মত শীতল হবার কারণে বসবাসোনপযোগী হয়ে পড়ত।

২. মানুষের সকল চিন্তাচেতনার (হোক তা মহাকাশবিজ্ঞান বিষয়ক- সেক্ষেত্রেও নভোচারীরা পৃথিবীকেই তাদের বাড়ী বলে অনুভব করেন।) কেন্দ্র এই পৃথিবী। মানুষের নিত্ত-নৈমিত্তিক আচার-আচরণ (dealings) এক কেন্দ্র করে। 
তাই মহাবিশ্ব আলাদা হয়ে কি তৈরি হল তা সঠিকরূপে বর্ণনা করার ও মানুষের জন্য বোধ্যগম্য করে ( যাতে সহজেই তুলনাটা বোঝা যায়) উপস্হাপনের এটাই সবোৎকৃষ্ট উপায়। 

৩. পৃথিবীকে উল্লেখের আরেকটা কারণ  হতে পারে আমাদের সামনে পৃথিবীর আদি অবস্থা তুলে ধরা। অর্থ্যাৎ এটা কি আগে থেকেই বিচ্ছিন্ন ছিল না এটা অন্য সকল মহাজাগতিক বস্তুর সাথে যুক্ত অবস্থায় ছিল। (পৃথিবী কি দিয়ে তৈরি বা আদি অবস্থায় কি কি পদার্থ দিয়ে তৈরি হয় সেটা এ আয়াতের আলোচ্য বিষয় নয়। সে আলোচনাও যথাস্হানে আছে-৪১:১১)

কুরআনে বৈজ্ঞানিক নিদর্শন উল্লেখের উদ্দেশ্য: মনে রাখতে আল কুরআন মূলত বিজ্ঞানের বই নয়। এটা হলো সব জ্ঞানের বই। এতে আছে আয়াত বা নিদর্শন। এতে মৌলিক পথপ্রদর্শনের পাশাপাশি মানবজীবনের প্রয়োজনীয় সকল জ্ঞানের কথা উল্লেখের মূল উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের গবেষকদের জানিয়ে দেওয়া  যে তুমি যে সত্য এখন জানলে সেটা আমি অনেক আগেই কিতাবে লিখে রেখেছি ( লাওহে মাহফুজে- যেখান থেকে কুরআনকে নাযিল করা হয়)। এবং এভাবে তাকে আল্লাহর অস্তিত্ব, পরকাল ইত্যাদির ব্যাপারে নিশ্চিত বুঝিয়ে দেওয়া যাতে করে সে আত্মসমর্পণ করে (অর্থ্যাৎ মুসলিম হয়ে যায়) ও পরকালে জবাবদিহীতার কথা মনে রেখে অপরাধের পথে পা না বাড়ায়।

বিজ্ঞান মানবজীবনের একমাত্র বিষয়বস্তু, মাপকাঠি বা সিদ্ধান্ত-নির্ণায়ক নয় :  
অনেকে মনে করেন বিজ্ঞানই মানব জীবনের একমাত্র আলোচ্যবস্তু ও মাপকাঠি বা সিদ্ধান্ত-নির্ণায়ক। তাই সবকিছুকে বিজ্ঞানের পাল্লা দিয়ে মেপে দেখতে হবে। ( যেমন করে অনেকে আবার অর্থনীতিকে একমাত্র বিষয়বস্তু বলে ধরে নেয়- কমিউনিস্টরা)। সত্যি কথা হলো মানবজীবনের আলোচ্যবিষয় সমূহের মধ্যে (যেমন সমাজনীতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি) একটা হচ্ছে('one of the' not 'the only') বিজ্ঞান। তাই কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে সকল বিষয়কে মিলিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ আপাতদৃষ্টিতা বিষয়গুলোকে পরস্পর সম্পর্কহীন মনে হলেও এসবগুলোর সমষ্টিই যেহেতু মানবজীবন তাই এদের মধ্যে অবশ্যই আন্ত:সম্পর্ক থাকতেই হবে। 
যেমন- পুরো মানবদেহের অঙ্গগুলো আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কহীন বলে মনে হলেও হাত,পা, অন্ত্র, কিডনি ইত্যাদি গভীরভাবে পরস্পর সম্পর্কিত। 
এ সম্পর্কে ছোটবেলায় আব্বুর বলা একটি কৌতুক মনে পড়ল। একবার নাকি হাত,পা বিদ্রোহ করল যে আমরা এত কষ্ট করে উপার্জন করি- আর পেট ব্যাটা বসে বসে খায়। আমরা কাল থেকে কাজ করবনা। যা ভাবা তাই কাজ। তারা কাজ করলনা। কয়েকদিন পর নিজেরাই দেখল হায়রে কোথায় আগের সেই হৃষ্টপুষ্ট হাত-পা!  তার বদলে এখন যে হাত, পায়ের কোষগুলি শুকিয়ে একবারে মৃতপ্রায়!! পরে বেচারারা আবার কাজ শুরু করল।

ডা. জাকির নায়েক ও মাওলানা মওদুদীর সমালোচনা। পরিণতি কী?

ইদানিং ব্লগ সহ ইন্টারনেট দুনিয়া, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও টিভি চ্যানেলে  মাওলানা মওদুদী ও ডা. জাকির নায়েককে নিয়ে প্রচুর লেখালেখি ও আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। কেউ কড়া সমালোচনা করছেন। অন্যরা সেগুলোর জবাব দিচ্ছেন। এ কারণে  মুসলিম ভাইদের নিজেদের মধ্যেই উত্তপ্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। আমরা নিজেরাই বিভক্ত হয়ে পড়ছি। আর এসব বিতর্কের বেশিরভাগই হয়ে থাকে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে যেগুলো নফল বা মুস্তাহাব ইত্যাদি।

সমালোচনাকারীরা দুই ধরণের। একদল সমালোচনা করেন না বুঝে। অপরদল করেন বুঝে শুনে ইচ্ছে করে তাঁদেরকে হেয় করার জন্য। এসব নিয়ে আমরা যখন অন্তর্দ্বন্ধে জড়াই তখন নিশ্চয়ই শয়তান আড়ালে বসে হাততালি দেয়।

মওদুদী ও ডা. জাকির নায়েক ইসলামের বড় আলেম ও ইসলামের জন্য তাঁদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু কোন মানুষই ভুলের উর্ধে নয়। তাই তাঁরাও অনেক সময় ছোটখাট ভুল করেছেন। আবার অনেক সময় আমাদের অজ্ঞতাবশত আমরা তাদের কথাকে ভুল মনে করেছি, ছোট ভুলকে বড় ভেবেছি বা প্রেক্ষাপট না জানাতে তাদেরকে ভুল ভেবেছি।

কিন্তু তাঁদের একচেটিয়া সমালোচনার পরিণতি কী? পরিণতি হচ্ছে যারা তিাদেরকে চেনেননা তারা এ সমালোচনার কারণে তাদেরকে খারাপ মনে করে বসে থাকবেন। ফলে দেখা যাবে এরা তাঁদের যেকোন মন্তব্যের বিরোধিতা করবে। যেমন তাঁরা হয়তো বলবেন, ইসলাম নারীকে সম অধিকার দেয়। কিন্তু এরা( যারা অপপ্রচারের কারণে ভুল ধারণা পোষণ করছেন) তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণের কারণে এ কথারও বিরোধীতা করে ইসলামের ক্ষতি ও অপপ্রচার করে বসবেন।

কয়েকদিন আগে এক ব্লগার মাওলানা মওদুদীর বিরোধীতা করতে গিয়ে বললেন-মওদুদী তাফহীমুল কুরআনে বলেছেন-
”এখানে আরেকটি প্রশ্ন দেখা দেয়, সেটি হচ্ছে. হযরত ইব্রাহীম আ. যখন তারকা দেখে বললেন, এ আমার রব আবার চাঁদ ও সূর্য দেখে তাদেরকেও নিজের রব বলে ঘোষণা দেন, সে সময় কি তিনি সাময়িক ভাবে হলেও শিরকে লিপ্ত হননি?”
তিনি বোঝালেন মওদুদী হযরত ইব্রাহীম আ. কে মুশরিক বলেছেন(নাউযুবিল্লাহ)। অথচ মওদুদী এখানে বোঝতে চেয়েছেন সন্দেহবাদী ও কুরআন বিদ্বেষীদের মনে এ প্রশ্ন আসতে পারে।তিনি পরবর্তী লাইন সমূহে এ অভিযোগের নিরসন ঘটিয়েছেন। (সুরা আন’আম ৬: আয়াত ৭৯, টীকা ৫৩)
অর্থ্যাৎ ব্লগার ইচ্ছা করে তাঁর কুৎসা করতে চেয়েছেন।
এরকম উদাহরণের অভাব নেই।
জাকির নায়েক সম্পর্কেও একইভাবে ভুল ব্যাখ্যা চলছে। বিশেষ করে ফিকহ ও মাসায়িল সম্পর্কে। যেমন তারবীর সালাত কত রাকাত, জামায়াতে নামাজ পড়ার সময় সুরা ফাতেহার পর মুক্তাদীদের উচ্চস্বরে আমীন বলা ইত্যাদি।
এখানে উল্লেখ্য ফিকহের বিষয়ে মতানৈক্য থাকতেই পারে।উল্লিখিত বিষয়ের চেয়ে বড় বড় বিষয়ে ও প্রধান চার ইমামের মত ভিন্ন ভিন্ন। যেমন মাংস হারাম হালাল নিয়ে এমনকি সাহাবীরাও দ্বিধাবিভক্ত।
তাই বলে আমরা সাহাবীদেরকে(নাউযুবিল্লাহ) ও চার মাজহাবের ইমাম ও অন্যান্য আলেম দেরকে ফেতনাবাজ বলব? তাদের সমালোচনা করবো ?

এছড়াও সময়ের পরিবর্তনের সাথে মাসয়ালা বদলাতে পারে।
যেমন আগে ধূমপান হারাম ছিলনা। কিন্তু কুরআন বলছে -

وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ "তোমরা নিজেরা নিজেদেরে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিওনা"-(২:১৯৫)

এখন বিজ্ঞানে প্রমাণিত ধূমপান মৃত্যুর অন্যতম কারণ তাই ধূমপান হারাম। এটা অবশ্যই ঠিক।
তাই বলে আমরা পূর্বের মতধারী আলেমদের সমালোচনা করব?
না বরং বিভিন্ণ সময় ব্যাখ্যা পাল্টাতেই পারে। আসুন উদার মনের অধিকারী হই। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে নিজেরা ঝগড়া না করি।
মুসলিমরা অনৈক্যে জর্জরিত বলেই তো তারা আজ মার খাচ্ছে। কয়েক লাখ ইসরাঈলীরা আমাদের বৈধ আধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে। আমরা কিছুই করতে পারছিনা। হামাস -ফাতাহ মিলতে পারছেনা। কি কারণে ? -অনৈক্যের কারণে।
পৃথিবীতে আজ অশান্তি কেন?
কারণ আমরা মুসলিমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছিনা। দায়িত্বটা কী?

আল্লাহ বলছেন- (সুরা আলে ইমরান, ৩:১১০)

 كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ ۗ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُم ۚ مِّنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ
অর্থ-”এখন তোমরাই দুনিয়ায় সর্বোত্তম দল৷ তোমাদের কর্মক্ষেত্রে আনা হয়েছে মানুষের হিদায়াত ও সংস্কার সাধনের জন্য। তোমরা নেকীর হুকুম দিয়ে থাকো, দুষ্কৃতি থেকে বিরত রাখো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো৷ এই আহলি কিতাবরা  ঈমান আনলে তাদের জন্যই ভালো হতো৷ যদিও তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক ঈমানদার পাওয়া যায়, কিন্তু তাদের অধিকাংশই নাফরমান৷”

তাই আল্লাহ অন্য জাতি (যারা মানবতার শত্রু) দ্বারা আমাদের প্রতিস্হাপিত করে দিয়েছেন। যেমন ঘোষণা দিয়েছেন সুরা মুহাম্মাদে(৪৭: ৩৮) 

وَإِن تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُونُوا أَمْثَالَكُم

অর্থ-”তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে আল্লাহ তোমাদের স্থানে অন্য কোন জাতিকে নিয়ে আসবেন৷ তারা তোমাদের মত হবে না৷”

ঠিকই এটা ঘটে গেছে। এখন মানবজাতির প্রতিনিধি হয়ে আমেরিকার মত সাম্রাজ্যবাদী যারা মানবতার চরম শত্রূ।

আমরা স্পেনের কর্ডোভায় হেরেছি কেন?
কেন আমরা পিরেনিজ পাড়ি দিয়ে ফ্রান্সে যেতে পারিনি। (যেটা হলে আজকের ইউরোপ থাকত ইসলামের আলোয় আলোকিত -ফলে বিশ্বে থাকতনা সাম্রাজ্যবাদের হুঙ্কার)
এর কারণ হল নিজেরা তুচ্ছ বিষয়ে মতভেদে জড়িয়ে পড়া।
ইসলাম বিরাধীরা এ জন্যই বলে- মুসলিমদের হারাতে হলে তাদেরকে ঘরোয়া বিভেদে জড়িয়ে দাও, কেননা আদর্শের লড়াইয়ে তাদের হারানো অসম্ভব।
কি সেই আদর্শ? আদর্শ হলো কুরআন-সুন্নাহ যা আমাদেরকে বলে
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّـهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّ‌قُوا
 ”তোমরা সম্মিলিতভাবে আল্লাহর রজ্জুকে আকঁড়ে ধর ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইওনা” (সুরা ইমরান : ১০৩)
”খোদাভিতি ও নেকির কাজে তোমরা পরস্পরকে সাহায্য কর।”

আরো পোস্ট দেখতে পুরাতন পোস্টসমূহ লেখায় ক্লিক করুন