ভিজিট করুন নতুন ও স্হায়ী ব্লগ www.alomoy.com, it.alomoy.com
ইসলাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইসলাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

কাদের সিদ্দীকির অপূর্ব ইসলাম প্রেম।

 সূত্রঃ আমারদেশ
শুধু পশুর মতো বেঁচে থাকার জন্য ঈমান আমান সবকিছু কেন বিসর্জন দেব। আওয়াজ উঠেছে, ইসলামী দল বাতিল করতে হবে। কিন্তু হিন্দুর দল থাকবে, খ্রিস্টানদের দল থাকবে—মুসলমানের দেশে মুসলমানের দল থাকবে না—কেমন সব আজব কথা! যারা ধর্মকর্ম মানে না, তারা তাদের মতো থাকুন। যাদের আল্লাহ আছে, রাসুল আছে তাদের কেন এত গালাগাল।

ব্লগার রাজীব মারা গেছে, তার জানাজার যদি দরকার হয় তাহলে কেন একটা পবিত্র স্থানে জানাজা করা হলো না, শাহবাগ চত্বরে কেন? এক নাগাড়ে ১২ দিন জনসমাগম হলে পায়খানা, পেশাব, থু থু ফেলে জায়গা কি নোংরা করা হয়নি? নোংরা জায়গায় নামাজ চলে না। জানাজা কোনো মশকারি নয়, জানাজা নামাজ ফরজে কেফায়া, চার তকবিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। কোন সে টেডি ইমাম তিন তকবিরে নামাজ শেষ করল? নামাজ পড়বেন অজু করবেন না, ক’জন ওখানে অজু করতে পেরেছিল? নারী-পুরুষ, হিন্দু, মুসলমান একসঙ্গে জানাজা হয়? হয় না। কেন অমন হলো? আপনাদের এত সামর্থ্য, এত ক্ষমতা—জায়গাটা একটু ঝাড়পোছ করে নিতেন, দয়া করে সবাই অজু করে নিতেন। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের জানাজা থেকে আলাদা করতেন। যত আধুনিকই হন পবিত্র ইসলামে পুরুষের পাশে কোনো নারীর অবস্থান অনুমোদন করে না।

তুমুল জোয়ার চলছে, তাই কেউ কথা বলে না। অনেক মুসলমানেরও কেবলা ঠিক নেই, ইমান দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমার রাজনৈতিক পিতা বঙ্গবন্ধুর বাড়ির মসজিদের কেবলাও ভুল—উত্তর-পশ্চিমে। যতক্ষণ বেঁচে আছি কেবলা নিয়ে বাঁচব, একচুল নড়চড় হতে দেব না। মুক্তিযুদ্ধের সময় শিয়ালের মতো পালাইনি। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর ইঁদুরের গর্তে লুকাইনি। এত বছর বলে এসেছি, যা খুশি তাই করবেন তা হতে পারে না। আজ জনতা জেগেছে, বাচ্চা ছেলেগুলোকে নষ্ট করতে চাচ্ছেন কেন? ভ্রষ্ট কমিউনিস্টের বাংলাদেশে ঠাঁই হবে না। মাঝেসাজে তারা চমক দেখাতে পারেন।

আল্লাহ-রসুলে বিশ্বাস করেন না আবার জানাজা পড়তে গেলেন কেন? তাও আবার চার তকবিরের জানাজা তিন তকবিরে পড়াতে গেলেন? এজন্য আর কেউ যদি প্রতিবাদ না করে না করুক, আমি প্রতিবাদ করছি, নিন্দা করছি। এত বড় একটা জাগরণ, কিছু লোক তাদের স্বার্থে পরিচালিত করতে চাচ্ছে—এটা হতে দেয়া যায় না।

শাহবাগ থেকে কেন কথা উঠবে আসিফ নজরুল, পিয়াস করীম, মাহমুদুর রহমানকে হত্যা করা হবে—তারা এমন কী করেছেন? সত্য কথা বললে কেন এত আঁতে ঘা লাগবে? ’৭১-এর রাজাকার ও তার দোসররা হত্যা করেছিল, আজও তার বিচারের দাবিতে জনতা সোচ্চার। আপনারা কাউকে সঙ্ঘবদ্ধভাবে হত্যা করলে তার বিচার হবে না? নিশ্চয়ই হবে।

সরাসরি শুনুন আল কুরআন-আমপারা

ডাউনলোড করতে প্লেয়ারের উপর রাইট ক্লিক করুন ও ক্লিক করুন Save Audio As..

এখানে ক্লিক করেও ডাউনলোড করতে পারেন
সূরা নাবা

সূরা নাজি’আত

সূরা আল-আবাসা

সূরা আত-তাকভীর

সূরা আল-ইনফিতার

সূরা মুতাফ্ফিফিন

সূরা আল-ইনশিকাক

সূরা আল-বুরুজ

সূরা আত তারিক্ব

সূরা আল-আ’লা

সূরা আল-গাশিয়া

সূরা আল ফাজর

সূরা আল বালাদ

সূরা আশ-শামস

সূরা আল লাইল

সূরা আদ দোহা

সূরা আলামনাশরাহ

সূরা আত ত্বীন

সূরা আল আলাক্ব

সূরা আল ক্বাদর

সূরা আল বাইয়্যিনাহ

সূরা যিলযাল

সূরা আল আদিয়াত

সূরা আল ক্বারিয়া

সূরা আত তাকাছুর

সূরা আল আসর

সূরা আল হুমাযাহ

সূরা আল ফিল

সূরা আল ক্বুরাইশ

সূরা আল মাউন

সূরা আল কাউছার

সূরা আল কাফিরুন

সূরা আন নাসর

সূরা আল মাসাদ

সূরা আল ইখলাস

সূরা আল ফালাক্ব

সূরা আননাস

ধর্ম মানব জীবনের কোন আলাদা বিভাগ নয় বরং সকল বিভাগের নিয়ন্ত্রক।

মানব জীবন অনেকগুলো বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত। যেমন অথর্নীতি, রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, বিজ্ঞান ইত্যাদি। প্রচলিত অর্থে ধর্মকেও এমন একটি বিভাগ মনে করা হয়।সেক্ষেত্রে প্রশ্ন দাঁড়ায় সেই ধর্ম মানব জীবনে কি কাজে লাগে? আমি নামাজ পড়লাম, রোজা রাখলাম, নফল ইবাদাত করলাম অর্থাৎ ধর্মীয় কাজ করলাম। কিন্তু এটা করে আমি সময় নষ্ট (?) করলাম কেন?
আমি তো ঐ সময় বসে বসে বিজ্ঞান শিখতে পারতাম বা গল্প পড়তে পারতাম।
এভাবে চিন্তা করলে মানবজীবনে ধর্মের কোন প্রয়োজনীয়তাই নেই। আর সে কারণে ধর্ম নামে আলাদা তো দূরের কথা কোন বিভাগই থাকা উচিৎ নয়।

এজন্যই কিছু বস্তুবাদী ও কমিউনিস্ট ধর্মকে মানবজীবন থেকে ছেঁটে ফেলতে চাচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় (?) কাজ করে সময় নষ্ট করার মানে কি।

কিন্তু ধর্মতো নিছক আচার-অনুষ্ঠানের নাম নয়। সঠিক করে বললে ধর্ম হচ্ছে জীবনব্যাবস্থা অর্থ্যাৎ দ্বীন।মানবজীবনে অনেকগুলো বিভাগ আছে সত্য। কিন্তু সেই বিভাগগুলোকে যখন ধর্মের আওতায় আনা হবে এবং ধর্মের (সঠিক করে বললে দ্বীন) মাপকাঠি দিয়ে বিচার করে পরিচালনা করা হবে তখনি এবং শুধুমাত্র তখনি সেই সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাঙ্খিত লক্ষ্যে অর্থ্যাৎ মানবজীবনকে শান্তি উপহার দেবার লক্ষ্যে পৌঁছুবে।

প্রশ্ন আসবে এসকল বিভাগকে (অর্থনীতি, রাজনীতি ইত্যাদি) কেন কোন কিছুর অধীনে রাখতে হবে?
সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে চলুক। যেমন বিজ্ঞান, অর্থনীতি ইত্যাদি যার যার নিজের নিয়মমাফিক চলুকনা।


এ প্রস্তাবটা বাহ্যিকভাবে যৌক্তিক মনে হলেও অন্তঃসারশূণ্য।
কারণ এ বিভাগগুলো বাহ্যিকভাবে পরস্পর-সম্পর্কহীন মনে হলেও তারা এক অপরের সাথে গভীরভাবে আন্তঃসম্পর্কিত। তাই কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে সকল বিষয়কে মিলিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ আপাতদৃষ্টিতা বিষয়গুলোকে পরস্পর সম্পর্কহীন মনে হলেও এসবগুলোর সমষ্টিই যেহেতু মানবজীবন তাই এদের মধ্যে অবশ্যই আন্ত:সম্পর্ক থাকতেই হবে।
যেমন- পুরো মানবদেহের অঙ্গগুলো আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কহীন বলে মনে হলেও হাত,পা, অন্ত্র, কিডনি ইত্যাদি গভীরভাবে পরস্পর সম্পর্কিত।
এ সম্পর্কে ছোটবেলায় আব্বুর বলা একটি কৌতুক মনে পড়ল। একবার নাকি হাত,পা বিদ্রোহ করল যে আমরা এত কষ্ট করে উপার্জন করি- আর পেট ব্যাটা বসে বসে খায়। আমরা কাল থেকে কাজ করবনা। যা ভাবা তাই কাজ। তারা কাজ করলনা। কয়েকদিন পর নিজেরাই দেখল হায়রে কোথায় আগের সেই হৃষ্টপুষ্ট হাত-পা! তার বদলে এখন যে হাত, পায়ের কোষগুলি শুকিয়ে একবারে মৃতপ্রায়!! পরে বেচারারা আবার কাজ শুরু করল।

কিন্তু এমন কোন মানুষ নেই যার এই সকল বিভাগগুলোর সার্বিক জ্ঞান আছে যা দিয়ে সে আইন রচনা করে বিভাগগুলোকে পরিচালনা করবে। এমন জ্ঞান আছে শুধু আল্লাহর। তিনি মানুষের স্রষ্টা তাই তিনিই জানেন এ জটিল ব্যাবস্থার (মানবমেশিন) জন্যে কি কি দরকার।

যুক্তি আসতে পারে, মানুষের একার সার্বিক জ্ঞান নেই ঠিক। কিন্তু যখন প্রতিটি ক্ষেত্রের সবার বুদ্ধি সমন্বিত করা হবে তখন নিশ্চয়ই একটা স্থিতিশীল আইন প্রণয়ন করা যাবে।

এর উত্তর হচ্ছে প্রথমত মানুষকে তো জানতে হবে তার এ জটিল শারীরিক অবস্থাকে। কিন্তু আমরা এটার কতটুকইবা জানি আমাদের এই জটিল শরীর ও শারীরিক ব্যাস্থাকে। এর পর রইল সামাজিক, রাষ্ট্রীয় দিক সমূহ।

দ্বিতীয়ত, মানুষকে আইন প্রণয়ন করতে দিলে সে ন্যায় ও ভারসাম্যপূর্ণ আইন রচনা করতে পারবেনা। কারণ তার আইনে থাকবে হিংসাও বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। (জাতিসংঘের কথাই ধরুন)
। তার নিজস্ব আইনে থাকবে তার নিজ-স্বার্থপরতার বহিঃপ্রকাশ, আরো কত কি। আরেকটি
কৌতুক বলার লোভ সামলাতে পারছিনা। হয়তো জানেনই।

এক গ্রাম্য চেয়ারম্যান ঘোষণা করল, "আগামী মাস থেকে এ গাঁয়ে যৌতুক নিষিদ্ধ"
জিজ্ঞেস করা হলো, ":এ মাস থেকে নয় কেন?"
উত্তর আসল, "এ মাসে যে আমার ছেলের বিয়ে!!"
এ হল মানবরচিত আইনের নমুনা।


তাই মানবজীবনের আইন রচনার ভার পড়া উচিৎ এমন এক সত্তার কাছে যিনি মানবের স্রষ্টা, মানবের ভালোমন্দ কিসে তা জানেন, মানবের জীবনের যত জ্ঞান-তত্বাদি দরকার তার পুরো ভান্ডার তার কাছে রয়েছে। যিনি হিংসুক নন, স্বার্থপর নন। যার সাথে কারো কোন ব্যক্তি-বিদ্বেষ নেই। তিনি হলেন আল্লাহ রাব্বুল আ'লামীন, রহমানুর রাহীম।

এ কারণেই নামাজ, রোজা নিছক কোন আচার-সর্বস্ব নিষ্প্রাণ অনুষ্টানাদি নয় বরং মানবজীবন গঠনের প্রশিক্ষণ, মূলমন্ত্র। আমরা আল্লাহকে না পাছে ভুলে যাই তা্ই দিনে পাঁচবার তাঁকে স্মরণ করি। আমাদের নামাজে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় মানবজীবন পরিচালনায় তাঁর আনুগত্যের গুরুত্ব, ভুল শোধরাবার গঠনমূলক কৌশল। স্মরণ করানো হয় তোমরা একই উৎস -আদম- হাওয়া থেকে সৃষ্ট। তাই স্বাভাবিক অবস্থায় সকলেই সমান। কেউ অধিক মর্যাদাবান হতে পারে শুধ সৎকাজ ও আল্লাহভীতির দ্বারা, কালো-সাদা বা ধনী গরীব হবার দ্বারা নয়।

আমরা আফ্রিকার জঘণ্য বর্ণবাদের কথা জানি। ইসলাম এর মূলে কুঠারাঘাত করে। মানুষে মানুষে সকল ভেদাভেদ দূরে ঠেলে দেয়। একইভাবে যাকাত, হজ্ব, রোজা কোনটাই কোন নিষ্প্রাণ আচার-সর্বস্ব অনুষ্ঠান নয়। এগুলোর প্রত্যেকটি মানবজীবনকে সুন্দর করে গড়ার প্রশিক্ষণ।

তবে কি আমরা ফরয সালাত আল্লাহর জন্য আর সুন্নাত সালাত রাসুল সা. এর জন্য পড়ি?-তোফাজ্জলের অদ্ভূদ ব্যাখ্যা

বিতর্কিত ওয়ায়েজ তোফাজ্জল হোসেন এর ওয়াজ শুনেন এমন এক বন্ধুর কাছে আজকে তার আরেক অদ্ভূদ কাহিনী শুনলাম। এক পীর নাকি তার মুরীদকে বলল ,'আজকে এশার নামায পড়োনা, পড়লে কিন্তু আমি জেনে ফেলব'। মুরীদ দোটানায় পড়ল। নামাযতো ফরয, আবার পীরের কথা! পরে সে বাসায় গিয়ে শুধু ফরযটুকু পড়ল। ফলে রাতে স্বপ্ন দেখল রাসুল সা. তাঁকে এসে বললেন, 'তুমি আমার সুন্নাত ছেড়ে দিলে?' পরদিন পীরও তাকে বলল ,'তুমি আমার কথা না শুনে ঠিকই সালাত পড়লে!! আর রাসুল সা. তোমাকে এই এই বললেন, তুমি যদি সুন্নাত না ছেড়ে ফরয ছাড়তে তবে স্বয়ং আল্লাহ স্বপ্নে দেখা দিতেন।'

সে সালাত ছাড়তে বলার কারণ জিজ্ঞেস করলে পীর বলল সেটা তুমি এখন বুঝবেনা, মারেফাতে পৌঁছলে বুঝবে!!!!
উনি বললেন মুরীদ যদি সুন্নাত না ছেড়ে ফরয ছাড়তো তবে স্বয়ং আল্লাহ স্বপ্নে দেখা দিতেন। তারমানে আমরা ফরয পড়ি আল্লাহকে খুশী করতে আর সুন্নাত পড়ি রাসুল সা. কে খুশী করতে??
কিন্তু কুরআন কি বলে??
(সুরা আন'আম ৬:১৬২)
قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّـهِ رَ‌بِّ الْعَالَمِينَ
আপনি বলুনঃ নিশ্চয়ই, আমার নামায, আমার কুরবানী এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে।
(সুরা কাউছার, ১০৮:২)
فَصَلِّ لِرَ‌بِّكَ وَانْحَرْ‌
অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন।

সুরা গাশিয়া (৮৮:২১-২২)
فَذَكِّرْ‌ إِنَّمَا أَنتَ مُذَكِّرٌ‌ ﴿٢١﴾ لَّسْتَ عَلَيْهِم بِمُصَيْطِرٍ‌
বেশ (হে নবী!) তাহলে তুমি উপদেশ দিয়ে যেতে থাকো। তুমি তো শুধু মাত্র একজন উপদেশক,
তাদের উপর তত্বাবধায়ক নন।

(সুরা আন'আম ৬:৭৯)
إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ‌ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْ‌ضَ حَنِيفًا ۖ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِ‌كِينَ
আমি তো একনিষ্ঠভাবে নিজের মুখ সেই সত্তার দিকে ফিরিয়ে নিয়েছি যিনি যমীন ও আসমান সৃষ্টি করেছেন এবং আমি কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।”

আমরা ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত সালাত সাওম বা যেকোন ইবাদত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যেই করি। রাসুল সা. তো আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন বাহক মাত্র। আর তাঁকে আমরা মানি আমাদের আল্লাহর প্রেরিত আদর্শ নেতা ও মানব হিসেব। তিনি আমাদের কাছে আল্লাহর বাণী ঠিকঠিকভাবে পৌঁছিয়েছেন, নিজে আল্লাহর বিধান শত জুলুম সহ্য করে বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে গেছেন ইত্যাদি কারণে আমরা তাঁকে পৃথিবীর সবকিছুর চাইতেও বেশি ভালোবাসি। কিন্তু আমাদের সবকাজের মূল উদ্দেশ্য শুধু এক আল্লাহরই সন্তুষ্টি অর্জন।

একজন হচ্ছেন মুনিব আরেকজন তাঁর দাস। দু'জন কোন দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে পারেননা।
(সুরা ইঊসুফ, ১২:৪০)
إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّـهِ
"আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই।"

এছাড়া আলোচ্য ঘটনায় পীর মুরীদের সালাতের খবর কীভাবে পেল? সেকি গায়েব জানে??
বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে। (সুরা নামল, ২৭:৬৫)

আর এটা কেমন পীরগীরি আর মুরীদি যেখানে ইসলামের প্রধান রুকন ছাড়ার আদেশ দেওয়া হয়।
অথচ কুরআন বলছে, "হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে কতৃত্বশীলদের তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম। "
কতৃত্বশীলদের আনুগত্য ততক্ষণ যতক্ষণ তারা আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ না করে। সীমা ছাড়াতে গেলেই আয়াতমতে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরে আসতে হবে।

এই তোফাজ্জল সাহেব বিভিন্ন উদ্ভদ কিসসা কাহিনীকে বজনপ্রিয় হবার জন্যে আকর্ষণীয় করে তুলে ধরছে। আগেও ব্লগে তাকে নিয়ে আব্দুল্লাহ শাহেদ ভাইসহ বিখ্যাত ইসলামী ব্লগারগণ আলোচনা করে তাকে বর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন।
সার্চ দিয়ে পেলাম ভাই ইসমাইল একেবি এর লেখা
বক্তা তোফাজ্জেলের আজগুবি ওয়াজ বিশ্লেষণ

বাংলাদেশে পূঁজার ছুটি আছে, আমেরিকা ইউরোপে ঈদের ছুটে নেই কেন?

আজকে নয়াদিগন্তে 'যুক্তরাষ্ট্রে কোরবানির প্যাকেজ ফর্মুলা' শিরোনামের খবর পড়তে গিয়ে জানলাম যুক্তরাষ্ট্রে ঈদের নামাজ পড়েই কাজে যোগ দিতে হয়, তার অর্থ ছুটি নেই। কৌতুহল জাগল। আমাদের দেশে ৯০% মুসলিমের পাশাপাশি হিন্দু ৯ শতাংশ ও বাকী ১ শতাংশ খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ [উইকিপিডিয়া] ২০১২ সালেও ছুটির তালিকা প্রকাশ করলে দেখা যায় ৯ শতাংশ হিন্দুদের জন্য বিভিন্ন ছুটি ছাড়াও মাত্র ১ শতাংশ খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধদের জন্যও যথাক্রমে ৪ জুন বুদ্ধ পূর্ণিমা ও ২৫ ডিসেম্বর যীশু খ্রিস্টের জন্মদিনকে (বড়দিন) সাধারণ ছুটি হিসেবে রাখা হয়েছে। {বিডিনিউজ} । এতে আমি মন খারাপ করিনা। ইসলামও তো অমুসলিমদের এমন অধীকার স্বীকার করে। যাইহোক খবরটি পড়ে আমেরিকা ইউরোপে মুসলমানরা ঈদের ছুটি পায় কিনা দেখার কৌতুহল জাগল।
আমেরিকাঃ

আমেরিকায় .৬% মুসলিমের বাস তার মানে প্রায় সংখ্যায় প্রায় ১৯ লাখ।উইকিপিডিয়া (বাংলাদেশে খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ মিলিয়ে ১%, তার অর্থ ধর্মদ্বয় নিজস্ব শতাংশে প্রায় .৫% যা আমেরিকায় মুসলিম হারের চেয়ে কম) দেখলাম আমেরিকার কেন্দ্রীয় ছুটি তালিকায় ঈদের কোন ছুটি নেই। [উইকিপিডিয়া]।
প্রথমে ভাবলাম হয়তো কোন ধর্মীয় ছুটিই নেই। কিন্তু দেখা গেল বড়দিনের ছুটি আছে। কেন্দ্রীয় তালিকায় না পেয়ে ধর্মীয় ও ঐতিহ্য বিষয়ক ছুটির তালিকায় দেখে দেখা গেল খ্রিষ্টের জন্মের ১২তম দিন উপলক্ষে Epiphany ছুটি আছে ৬ জানুয়ারিতে, Orthodox Christmas এর জন্য একই মাসের ৭ তারিখে, ছুটি আছে ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায় এপ্রিল ফুল দিবসেও !!!!, {উইকিপিডিয়া} ।
এছাড়াও যীশুর জেরুজালেমে প্রবেশ উপলক্ষে পাম সানডে , বিতর্কিত ক্রুশবিদ্ধ হওয়া উপলক্ষে গুড ফ্রাইডে, তথাকথিত পুনরুথান উপলক্ষে ঈস্টার, বড়দিনের জন্য ২৪ ডিসেম্বর ও বড়দিনের সম্মানে আগেই ব্ল্যাক ফ্রাইডের জন্যে ছুটি আছে। পাশাপাশি ১.৭ শতাংশ ইহুদিদের জন্যে রয়েছে হিব্রু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী Passover, তথাকথিত Sabbath of rest উপলক্ষে Yom Kippur ছুটি ও Hanukkah উপলক্ষে ছুটি।  
কিন্তু .৬ শতাংশ মুসলিমের জন্যে ঈদের ছুটি নেই!!!!

যুক্তরাজ্যঃ যুক্তরাজ্যে ৭১.৬ শতাংশ খ্রিষ্টান ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধর্মানুসারী মুসলিম ২.৮ ভাগ ।{উইকিপিডিয়া} সেদেশেও গুড ফ্রাইডে, ঈস্টার মানডে এবং ক্রিসমাস বা বড়দিন উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর ছুটি আছে। কিন্তু ঈদের ছুটি নেই ২.৮ ভাগ মুসলিমের জন্যে!!!! ব্যাংক ছুটি আছে মোট নয় দিন। সে তালিকায়ও দুটি ধর্মীয় ছুটি আছে, কিন্তু সাড়ে ১৭ লাখ মুসলমানদের জন্য নয়!!!

ফ্রান্সঃ ফ্রান্সে প্রায় ৫০-৬০ লাখ মুসলিম বাস করেন যা জনসংখ্যার প্রায় ৮-১০ %। উইকিপিডিয়া। ফ্রান্সে ঈশ্বরে বিশ্বাসী লোকের হারই মাত্র ৩৪ %{প্রাগুক্ত} সেখানে ৮-১০% মুসলিমদের সংখ্যা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। কিন্তু ছুটির হিসাবে দেখা যায় গুড ফ্রাইডে, ইস্টার মানডে ও বড়দিনের জন্যে ছুটি আছে, তবে মুসলিমদের জন্যে কোন ছুটি নেই।

একটু ভাবুনঃ অনেকে হয়তো বলবেন সেসব দেশ উন্নত । তাই মুসলিমদের মত ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের জন্যে ছুটি বরাদ্ধ করে উন্নয়ন যাত্রা বাধাগ্রস্থ করতে চায়না। যদি তাই হয় তাহলে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অধীকার রক্ষার সুন্দর বুলিগুলি বুঝি শুধু আমাদের দেশের মত অনুন্নত দেশেগুলোর জন্যেই। সেসেব দেশে মুসলিমরা .৬ ভাগ, ২.৮ ভাগ এমনকি প্রায় ১০ ভাগ হয়েও ছুটি পাননা কিন্তু আমাদের দেশেতো প্রায় .৫ ভাগও ছুটি ভোগ করেন। এতে কি আমাদের উন্নয়ন-যাত্রা বাধাগ্রস্থ হয়না?

তারপরেও এখানে আমার দাবী এটা নয় যে বাংলাদেশে অন্যান্য ধর্মালম্বীদের ছুটি কেড়ে নেওয়া হোক। বরং আমি চাই এসব তথাকথিত সভ্য দেশ অন্যকে উপদেশ দিতে আসার আগে নিজেরা যেন আমল করে। রামুর ঘটনায় তাদের উদ্বেগ লক্ষণীয়, আমরা কিছু মনে করিনা। কিন্তু একইভাবে কাশ্মীর, ফিলিস্তিন ইস্যু কেন প্রাধান্য পায়না? আমাদের মত নিরীহ দেশগুলো থেকে তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ঠিকই আদায় করে কিন্তু নিজেরা নিজেদের দেশে এ অধীকার নিশ্চিত করতে পারেনা।

ইসলামী জীবনব্যাবস্থাই সত্য ও সঠিক-অখণ্ডনীয় যুক্তি


১. জীবনব্যাবস্থার ভাষার তাৎপর্যঃ
ইসলামী আদর্শের ভিত্তি কুরআনের ভাষা আরবী। এটি একটি জীবন্ত ভাষা। সেই ১৪০০ বছর আগে যেমন ছিলো এখনও প্রায় শতভাগ তেমনই আছে। আমাদের জন্য কয়েকশো বছর আগেরও বাংলা বা ইংরেজি ভাষা বুঝাতো দূরের কথা পড়তেই কষ্ট হবে। ফলে এ আদর্শকে বুঝা ও এর প্রচার ও প্রতিষ্ঠা অনেকটাই সুবিধাজনক।
এ ভাষার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো অল্প কথায় অধিক ভাব প্রকাশের গুণ। ছোট্ট বাক্য বা শব্দেই অসংখ্য অন্তর্নিহিত ভাব ফুটয়ে তোলা সম্ভব। যেমন وَالْأَرْ‌ضَ بَعْدَ ذَٰلِكَ دَحَاهَا (সুরা নাযিআত, ৭৯:৩০)। এখানে দাহাহ্বা মানে প্রসারিত করা। এরই আরেকটি অর্থ  উটপাখির ডিম। তাহলে অর্থ দাঁড়ায় , “অতঃপর তিনি পৃথিবীকে করলেন উটপাখির ডিমের মত”। এখন আমরা জানি পৃথিবীর আকার সম্পূর্ণ গোলক বা কমলালেবুর মত নয় , আসলে এটি মেরু অঞ্চলদ্বয়ে চাপা হওয়ায় আকৃতি দাঁড়ায় উটপাখির ডিমের মতই। 
এছাড়াও এ ভাষা সহজেই মুখস্ত করা যায়। 
২. রাসুলুল্লাহর (সা.) এর আবির্ভাবের সময় এর গুরুত্ব:  যেকোন মতবাদ বা জীবনব্যাস্থাকে টিকে থাকতে ও প্রতিষ্ঠিত হতে হলে এর মূল উৎসটি বিদ্যমান থাকতে হবে অবিকৃতভাবে। ইসলামী জীবনব্যাবস্থার মূল ভিত্তি কুরআন। আর এটাই নাজিলের পর থেকে এ জীবব্যাবস্থার জন্য চিরস্থায়ী উৎস। এটা এমনই এক যুগে নাজিল করা হলো যখন এটাকে আর বিকৃত বা নষ্ট করা প্রযুক্তিগত কারণে বিকৃতমনা মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে গেল। (যা আল্লাহরই ঘোষণা-সুরা হিজর, ১৫:৯)
যুগটা ছিল এমনই যখন ইতিহাস আর কয়েকটা বাঁক ঘুরতেই আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে পদার্পণ করতে যাচ্ছিল । এ সময়ের ফলে সুবিধা হলো-
-একে নষ্ট বা বিকৃত করবার কোন সুযোগ থাকলনা
-এটায় বিজ্ঞানচর্চার বিশদ রসদ রয়েছে যা সেসময়ের পরবর্তী যুগের সভ্যতার নির্ধারক হবে
-এটায় আগতযগের বিজ্ঞানভিত্তিক মানুষকে ইসলামের দিকে আনার জন্যে সুন্দর বৈজ্ঞানিক যুক্তির অবতারণা করা হয়েছে।
৩. যে জাতির কাছে পাঠানো হলো তার তাৎপর্য: কোন বিশ্বব্যাপী জীবনব্যাবস্থা বা মতবাদ গোড়াতেই সারাবিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হয়না। প্রথমে একে এর উৎপত্তিস্থলে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে হয়। তৎকালীন বিশ্বে ইসলামের পক্ষে এ কাজের জন্যে আরবদের সমকক্ষ কোন জাতি ছিলনা। ইসলাম-হীন সমাজে যদিও তারা ছিল হিংস্র কিন্তু তারা ছিল প্রতিপক্ষের মোকাবেলায় দৃঢ় ও অকুতোভয়, অসীম সাহসী। গোত্রীয় কলহ চরমে পৌঁছানোর পরেও পাশ্ববর্তী দুই পরাশক্তি রোম ও পারস্য সাম্রাজ্যের কায়সার ও কিসরা তাদেরকে বশে আনতে পারেনি। গরম আবহাওয়া, মরুঝড়ের ঝাপটা, রাতদিনের কষ্টকর সফর, ক্ষুধা ও পিপাসার অভিজ্ঞতা, প্রতিদিনের হত্যা ও লুটতরাজ ইত্যাদি তাদেরকে দুঃসাহসী ও দুর্ধর্ষ করে তুলেছিল যাকে নৈতিকতার পোষাক পরিয়ে দিলে তা একটি আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে সমকক্ষহীন হতে পারত।

এছাড়া আগের পয়েন্টে যেমনটা বলেছি আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে হলে এর উৎসসমূহ বিদ্যমান থাকতে হবে। লক্ষ্যণীয়- কুরআন নাজিল হলো এমন জাতির কাছে প্রাথমিক যুগে কুরআন সংরক্ষণে সত্যিই আল্লাহর প্রতিনিধি হতে পারত। কারণ হলো তাদের স্মরণশক্তি ছিলো কল্পনাতীত। নিজেদের বংশ পরম্পরা তো বটেই, এমনকি তারা তাদের ঘোড়ার বংশ পরম্পরাও মুখস্থ রাখতো।


৪. রাসুল সা. কে প্রেরিত এলাকার গুরুত্বঃ তৎকালীন সময়ে একটি মতাদর্শকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেবার জন্যে সবচেয়ে অনুকূল এলাকা ছিল ঐ আরব উপদ্বীপ। এটা ছিল তখনকার সভ্য দুনিয়ার কেন্দ্রস্থলে। প্রাচ্য, পাশ্চাত্য ও উত্তর দিক থেকে আগত সকল বাণিজ্যিক পথগুলো আরব ভূখন্ডের সাথে এসে মিলিত হয়েছিল। ভারত, চীন, ইরাক, পারস্য (ইরান), মিশর, রোম ও ইথওপিয়া সকল অঞ্চলের ব্যাবসায়িক মিলনকেন্দ্র ছিল এটি।
আবার পৃথিবীর সকল মুসলমানের কাবা যে মক্কায় সেটাও পৃথিবীর ভূভাগের কেন্দ্রে- দুইমেরুর মাঝখানে যা নামাজের কেবলা হিসেবে ব্যাবহৃত হয়ে একই বৃত্তে সকল মুসলমানকে আবদ্ধ করে যা ঐক্যেরও প্রতীক।

৫. অত্যাচার ও নির্যাতনের মুখে আদর্শবাদীদের দৃঢ়তাঃ
যেকোন মতাদর্শই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে গেলে বিরুদ্ধবাদীদের নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়। তবে ইসলাম এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এর অনুসারীরা যেমন বিরল নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে তেমনি নির্যাতনের মুখে অটল থাকারও বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কিসের টানে হযরত খুবাইব রা. হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে যেতে পারেন, কিসের টানে হযরত মুসয়াব রা. বাবা-মায়ের আদরের বন্ধন ও বিলাসিতা কুরবানী করতে পারেন? এযে সত্যের মোহ!!
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুজাফাহ আস সাহমী রা. এর ঘটনাটি উল্লেখযোগ্য। হিজরী ১৯ সনে রোমানদের সাথে যুদ্ধে তিনি বন্দী হলে রোম সম্রাট কাইসার তাকে দেখতে চান। তাঁকে অর্ধেক সাম্রাজ্য ও কন্যা সমর্পণের লোভ দেখিয়ে খৃষ্টধর্ম গ্রহণের লোভ দেখানো হয়। ব্যার্থ হয়ে শূলীকাষ্ঠে ঝুলিয়ে রাখা হলো, তিনি অনড়। এবার তাঁকে দু’পায়ে ঝুলিয়ে বেঁধে পুনরায় একই দাবী রাখা হলো। তিনি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন। এবার বিশাল এক কড়াইয়ে তেল ঢেলে আগুণে ফুটিয়ে টগবগে উত্তপ্ত করে অন্য দু’জন মুসলিম বন্দীকে তাতে ফেলে দেওয়া হলো। সাথে সাথে তাদের হাড় থেকে গোশত পৃথক হয়ে গেল। তাকেও এখানে ফেলে দেবার হুমকি দিয়ে পুনারায় একই দাবী জানালে তিনি আরো জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। (অবশ্য পরে অন্য ৮০ জন মুসলিমকেও মুক্তি দেওয়া হবে- এই শর্তে সম্রাটের মাথায় চুম্বন করে মুক্তি পান)
হযরত খাব্বাবকে পাথর আগুণে গরম করে তার উপর শুইয়ে দেওয়া হতো, তাঁর কাঁর্ধের চর্বি গলে যেতো। গলিত চর্বিতেই আগুণ নিভতো!!
কেন এই দৃঢ়তা? এযে সত্যেপলদ্ধির ফসল।

৬. হাদিসের পূর্ণাঙ্গতাঃ
এক হাদিসে রাসুল সা. দাজ্জালের আলোচনা করতে গিয়ে বললেন সে ৪০ দিন টিকে থাকবে যার একদিন এক মাসের সমান, একদিন এক সপ্তাহের সমান এবং বাকী ‍দিনগুলো স্বাভাবিক হবে। তখন সাহাবা (রা. আনহুম) রা বললেন  “দীর্ঘ দিনটিতে কি একদিনের নামাজ পড়লেই যথেষ্ট হবে?” তিনি জবাব দিলেন, “না , হিসেব করে পড়ে নিতে হবে”
যদিও সাহাবারা (রা. আনহুম) জানতেন দাজ্জাল তাঁদের সময় নয় বরং হযরত ঈসার (আ.) পুনারার্বিভাবের প্রাক্কালে আসবে তবুও পরবর্তী সেই যুগের মুসলমানদের জন্য প্রয়োজনীয় বিধানটি সাহাবাদের দ্বারা ও জিজ্ঞেস করা ও রাসুলের (সা.) মুখ দিয়ে বের করা আল্লাহরেই কৌশল। এমন দূরদর্শী বিভিন্ন বিধানাবলীতে হাদিসের গ্রন্থাবলী ভরপুর।
কোন মানবীয় মতাদর্শের পক্ষে এমন সর্বকালের যুগোপযোগী বিধান গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
 তথ্যসূত্র:
মানবতার বন্ধু মুহাম্মাদ সা.- নঈম সিদ্দিকী
আসহাবে রাসুলে জীবনকথা-২/৮০,৮৫
রিয়াদুস সালেহীন -৪/২০০

না দেখে বিশ্বাস করিনা!!!


জ্ঞানী মানুষও চিন্তার সংকীর্ণতার কারণে কীভাবে মূর্খের মতো আচরণ করতে পারে তার একটা উদাহরণ হলো শিরোনামে দেওয়া বক্তব্য। উনারা বলে থাকেন ইসলাম কি আজব আজব কথাবার্তা বলে। কি নাকি বেহেশত, দোজখ, জিন, ফেরেশতা আছে। এসব কি কেউ কখনো দেখেছে? 

গতকাল স্টুডেন্টকে পড়াতে গিয়ে এ চিন্তার অসারতার নতুন একটা দিক খুঁজে পেলাম। যখন বলছিলাম একটা বস্তুকে উপরে ছেড়ে দিলে নিচে নামে কেন। কারণ পৃথিবীর অভিকর্ষ। নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রানুযায়ী প্রত্যেক বস্তুই একে অপরকে নিজ দিকে আকর্ষণ করে। এমনকি দুটো কলম পাশাপাশি রেখে দিলেও এরাও আসলে পরস্পরকে আকর্ষণ করে। কিন্তু আকর্ষণের পরমিাণ অনুভূত হবার চেয়ে অনেক কম হওয়ায় দেখা যায়না বা বোঝাই যায়না। তাই বলে কি তাদের আকর্ষণ মিথ্যা????!!!!
 
অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যায়। 

একইভাবে 'চোখে দেখিনা' দোহাই দিয়ে কোনভাবেই জান্নাত জাহান্নামকে অস্বীকার করা যায়না। পৃথিবীর অস্তিত্ব যেমন বাস্তব তার চেয়েও বাস্তব পরকাল। পৃথিবীর সকল কাজ-কর্মের প্রতিফল পাবার জন্যে আরেকটা জগত প্রয়োজন যেখানে এখানে না পাওয়া প্রাপ্য সঠিকভাবে ন্যায় বিচারের মাধ্যমে দেওয়া হবে। প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাবে। যারা মহান কাজ সম্পাদন করেও এখানে পুরস্কার পাননি তাদের পুরস্কৃত করা হবে। যারা একাই অসংখ্য মানুষের ক্ষতিসাধন করেছে তাদের থেকে কড়ায় গন্ডায় হিসেব নেওয়া হবে। একমাত্র পরকালের ভয় আর আল্লাহভীতিই মানুষকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পারে। যে মনে সে যে করছে তার হিসেব দিতে হবে আর যে উল্টোটা মনে করছে দুজনের কাজের প্রকৃতি একই হওয়া সম্ভব নয়। প্রথমজন অবশ্যই অন্যের জন্যে ও সমাজের জন্যে ক্ষতিকর কাজ এড়িয়ে যাবে। 

এছাড়া যে আল্লাহ কুরআনে এত সুন্দর গুছিয়ে মানবজীবনের সব বিষয় আলেঅচনা করেছেন, সমাধান দিয়েছেন নির্ভুল অসংখ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য দিয়েছেন তাঁর আর একটি কথা পরকালের ব্যাপারে সেটা বিশ্বাস না করাই অস্বাভাবিক।
 
যে মুহাম্মাদ সা. জীবনে মিথ্যা বলেনি, বানিয়ে কোন কথা বলেননি যার সাক্ষ্য তাঁর ঘোর বিরোধীরাও দিত তিনি পরকালের ব্যাপারে উদ্ভট একটা কথা বলেছেন এটা মেনে নেওয়াও হাস্যকর ও অযৌক্তিক।

সুন্নতের অনুসরণ

বর্তমানে বিভিন্ন ইসলামী দল বা গোষ্ঠী বলে থাকেন তারা রাসুলের সুন্নতের অনসরণ করেন। কেউ আবার অন্যদের বলেন," রাসুলের সুন্নতের সাথে আপনাদের এত বৈরিতা কেন? সুন্নত মানতে অসুবিধা কোথায়?" অন্যদিকে বিপরীত পক্ষেরও দাবী তারাই রাসুলের সুন্নতের যথাযথ অনুসারী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস সুন্নাত শব্দটির অর্থগুলোর সঠিক ব্যাবহারের অভাবে এ ভুলবোঝাবুঝি ও মতানৈক্য। আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের সংর্কীর্ণতা কাটাতে সুন্নতের অর্থ শিখে তিনটি অর্থ জেনেছি। 
১. হাদিস অর্থ্যাৎ রাসুলের (সা.) কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি 
২. ফিকাহশাস্ত্রে সুন্নত মানে হচ্ছে যা ফরজ কিংবা ওয়াজিব নয় তবে রাসুল সা. প্রায়ই তা করেছেন। 
ফিকহের ভাষায় সুন্নত করলে সওয়াব হবে তবে না করলে গুনাহ নেই। 
৩. সুন্নাত মানে আবার আদর্শ, রীতি-নীতি, পন্থা, পথ ইত্যাদি। 
সহজেই বোঝা যায় ৩য় ধরণের সুন্নত হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ১ম ধরণের সুন্নত বা হাদিস যেহেতু ইসলামরে ২য় উৎস হাদিস তাই সেটা পালন করা নির্ভর করবে হাদিসের গ্রহণযোগ্যতার উপর। 

কোন কোন গোষ্ঠী বলেন আমরা রাসুলের (সা.) সুন্নতের অনুসরণ করি। দুঃখের বিষয় বাস্তবে তারা ফিকহশাস্ত্রে সুন্নতের যে অর্থ সেই অর্থের সুন্নতকে বোঝেন এবং শুধু এ ধরণের কাজ কঠোরভঅবে পালন করেন।। অথচ আমাদেরকে মেনে চলতে হবে রাসুলের আদর্শ, মতবাদ যা তৃতীয় ধরণের সুন্নত। আর এ কারণেই দেখা যায় ঐসব লোক পান্জাবি, টুপি আর দাঁড়ি রেখেই সুন্নতের দাবী পূরণ করে ফেলেছেন বলে মনে করেন। পাশাপাশি অবশ্য খাওয়া, হাঁটাচলা ইত্যাদি কিছু বিষয়েও ২য় ধরণের সুন্নতকে কড়াকড়ি করে মেনে চলেন। এটা খারাপ হতোনা যদি এটা করে এটাকেই যথেষ্ট মনে করে রাসুলের মৌলিক আদর্শকে অবহেলা করা না হতো। 

তাই দেখা যায় যারা পান্জাবি, টুপি পরে সুন্নত মেনে ফেলেছেন বলে মনে করেন তারা জেনে বা না জেনে (আর ইসলামকে না জানলে তো মুসলিম হবার হকই আদায় হয়না) রাসুলের (সা.) আদর্শকে (যার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য ফরজ, ওয়াজিব) অবহেলা করেন। যেমন ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করা, ইসলাম বিরোধীদের প্রশ্রয় না দেওয়া, সামষ্টিক জীবনে ইসলামকে মেনে চলা, পুরুষদের পর্দা, বিভিন্ন কার্যোদ্ধারকল্পে ঘুষ প্রদান, যেনতেনভাবে ইনকাম ইত্যাদির ব্যাপারে রাসুলকে (সা.) হুবহু মেনে চলা। 

তাই আসুন প্রথমত রাসুলের আদর্শকে নিজেদের জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বানিয়ে নিই। কতিপয় সুন্নত আমলের মধ্যে নিজেদের সীমিত না করি উপরন্ত যা ফরজ ওয়াজিব পালনে আগ্রহ তৈরি করেনা। রাসুলের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সুন্নতও আমল করতে পারলে তো আলহামদুলিল্লাহ। কেউ করতে না পারলে (যেমন টুপি) তার নিন্দা না করি। 
বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসুল সা. সুন্নত বলে ফিকহের সুন্নত বোঝাননি বরং তার আদর্শ তথা সমাগ্রিক জীবনের রূপ বুঝিয়েছেন। যদি ফিকহের সুন্নত বোঝাতেন তাহলে এটা কি করে সম্ভব তিনি ফরজ ওয়াজিবের কথা না বলে সুন্নতের কথার প্রতি জোর দিবেন? 

শেষে একটি কথা বলি কেউ আবার বলেন, "মাথা থেকে পা পর্যন্ত সুন্নত মেনে চলতে হবে" 
আমি বলতে চাই বরং বলুন, "দিনরাত চব্বিশ ঘন্টাই সুন্নত তথা রাসুলের জীবনাদর্শ মানুন, তিনি তাঁর সারা জীবনে যতকিছু করেছেন তার কোন কিছু কাটছাট না করে"

আল্লাহর অনুপম সৃষ্টি ভারসাম্য- প্রসঙ্গ: শব্দের গতিবেগ

আমরা জানি বাতাসে শব্দের গতিবেগ সেকেন্ডে প্রায় ৩৪০ মিটার। কিন্তু
আমরা একটু গভীর চিন্তাভাবনা করলে দেখতে পাব এই নির্দিষ্ট গতিবেগটি কত
ভারসাম্যপূর্ণ!
ধরা যাক, শব্দের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩৪০ মিটার না হয়ে ৩৪০ মিলিমিটার,
যা মানুষের হাঁটার বেগের চেয়েও কম। এ অবস্থায় যদি দুজন লোক ঘরে বসে
কথাবার্তা বলে তবে তেমন সমস্যা হবেনা। কিন্তু যদি পায়চারী করতে করতে কথা
বলা হয় তাহলে বেগ কম হবার কারণে শব্দগুলো পরস্পরের সাথে মিলেমিশে একাকার
হয়ে জগাখিচুড়ি হয়ে যাবে। ফলে কোন কথাই স্পষ্টরূপে বোধগম্য হবেনা।
আরো মজার ব্যাপার ঘটবে যখন বক্তা অপরজনের দিকে এগিয়ে আসতে থাকবেন। এ
অবস্থায় বক্তার প্রথমে বলা শব্দগুলো শ্রোতার কানে পৌঁছুবে সবশেষে। কারণ
কথকের বেগ শব্দের বেগের চেয়ে বেশি। ফলে এক মুহূর্ত আগে বলা কথাটা
শ্রোতার নিকট থেকে তার চেয়ে বেশি দূরতে থাকবে।

ফলে ক্রমান্বয়ে শেষে বলা শব্দগুলো শ্রোতা আগে শুনতে থাকবে। ফলে বাক্য গঠন হয়ে যাবে উল্টো।
যেমন যদি বলা হয়, “এক দেশে এক রাজা ছিল” তবে শোনা যাবে, “ছিল রাজা এক দেশে এক”।
পকৃতপক্ষে অবস্থা অরো খারাপ হবে কারণ বাক্যের শুধু শব্দুগুলোই ক্রম
পাল্টাবে কেন? প্রতিটি ধ্বনিই ক্রম পাল্টাবে। ফলে কোনভাবেই বক্তব্য বুঝে
আসবেনা। একইভাবে শব্দের বেগ যদি অনেক বেশি হত তাহলেও অনেক জটিলতায় পড়তে
হতো।
জড়বাদীরা যেমনটা দাবী করে এ বিশ্বপ্রকৃতি আপনাআপনি অস্তিত্বে এসেছে,
সেক্ষেত্রে এরকম মহাবিশ্বের হাজারো ভারসাম্য কীভাবে আপনাআপনি তৈরি হলো?
তাপগতিবিদ্যা (thermodynamics) থেকে আমরা জানি কোন ব্যাবস্থা (system)কে হস্তক্ষেপবিহীন অবস্থায় রেখে দিলে সেখান থেকে গঠনমূলক বা ভারসাম্যপূর্ণ কিছু তৈরি হওয়া অসম্ভব।
এই মহাবিশ্বে এমন অসংখ্য সুশৃংখ্যলতা ও ভারসাম্যপূর্ণতার নিদর্শন আছে যা
থেকে এটা ধারণা করাও অসম্ভব ও অবজ্ঞৈানিক যে এই মহাকাঠামো (superstucture) নিজে থেকেই অস্তিত্বে এসেছে।
কুরআনে তাই আল্লাহ ঘোষণা করছেন-
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ
”আসমান ও জমিনের সৃষ্টি ও দিন-রাতের ক্রমাবর্তনের মধ্যে বুদ্ধিমানদের
জন্যে অবশ্যই অনেক নিদর্শন রয়েছে”
(সুরা আলে ইমরান, ৩:১৯০

আরো পোস্ট দেখতে পুরাতন পোস্টসমূহ লেখায় ক্লিক করুন