ভিজিট করুন নতুন ও স্হায়ী ব্লগ www.alomoy.com, it.alomoy.com
islam-and-science লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
islam-and-science লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

কুরআনের গাণিতিক অলৌকিকতা ;পর্ব-২



#'সাবয়া সামাওয়াত' অর্থ সাত আসমান। কুরআনে এই সাত আসমান কথাটা সাতবারই এসেছে।
#খালকুস সামাওয়াত বা আসমানসমূহের সৃষ্টি কথাটাও এসেছে ৭ বার।
# সাবয়াতু আইয়াম' মানে ৭দিন। একথাও কুরআনে আছে ৭ বার।
#ইয়াওমুন মানে দিন। সমগ্র কুরআনে এ শব্দটি আছে ৩৬৫ বার। বহুবচন আইয়াম মানে দিনসমূহ। এটা এসছে ৩০ বার। আরবী ভাষায় চাঁদ হচ্ছে মাসের সূত্র সূচক। গড়ে বছরের প্রতি মাসে ৩০ দিন। চাঁদের আরবী কামার' যা কুরআনে এসেছে ৩০ বার!!
#শাহরুন মানে মাস। এটা কুরআনে এসেছে ১২ বার।
#সানাতুন' মানে বছর। শব্দটি এসছে ১৯ বার। এখন আমরা জানি মেতনীয় বৃত্ত এর কথা অর্থ্যাৎ প্রতি ১৯ বছর পর পর সূর্য্য ও পৃথিবী একই বৃত্তে অবস্থান করে।

এবার দেখা যাক কিছু বিপরীত শব্দ--
#'দুনিয়া' ও 'আখেরাত' দুটি কথাই কুরআনে সমান সংখ্যায় এসেছে-১১৫ বার।
#ঈমান ও কুফর শব্দ দুটিও এসছে সমানসংখ্যায়-২৫ বার।
#গরম ও ঠান্ডা শব্দ দুটি এসেছে ৫ বার করে অর্থ্যাৎ সমানসংখ্যক।
#'কুল' মানে 'বলো' আর 'কালু' মানে তারা বলে-এ দুটি কথাও এসেছে সমান সংখ্যায়- ৩৩২ বার করে
#মালাকুন বা মালায়িকা মানে ফেরেশতা এবং অপরদিকে  'শয়তান'- দুটোই এসেছে ৮৮ বার।
# 'আল খবিস' মানে অপবিত্র আর আত তাইয়েব মানে পবিত্র। দুটোই এসেছে ৭ বার করে।
#হায়াত বা জীবন এবং মওত বা মৃত্যু দুটিই ১৬ বার করে এসেছে।

**কিছু শব্দের উল্লেখসংখ্যা কম-বেশি বা সমান হওয়া
#ফুজ্জার বা পাপী শব্দটা এসেছে ৩ বার আর আবরার বা পূণ্যবান শব্দটি এসেছে ৬ বার। বা দ্বিগুণ। কারণ সুরা সাবার ৩৭ নং আয়াত বলছে 'এধরণের (পূণ্যবানদের) জন্যেই রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার।
 # সুরা আলে ইমরানের ৫৯ নং আয়াত বলছে হযরত ঈসা আ. এর উদাহরণ আদম আ. এর মতো। দুজনের নামই কুরআনে ২৫ বার এসেছে।
#কুরআন বলে সুদ ও ব্যাবসা একইরকম নয় (সুরা বাকারা-২৭৫)। সুদ শব্দ এসেছে ৬ বার আর ব্যাবসা ৭ বার।
পাসওয়াড সুরক্ষিত পোস্ট পড়ার পাসওয়ার্ড:  Iloveislam

না দেখে বিশ্বাস করিনা!!!


জ্ঞানী মানুষও চিন্তার সংকীর্ণতার কারণে কীভাবে মূর্খের মতো আচরণ করতে পারে তার একটা উদাহরণ হলো শিরোনামে দেওয়া বক্তব্য। উনারা বলে থাকেন ইসলাম কি আজব আজব কথাবার্তা বলে। কি নাকি বেহেশত, দোজখ, জিন, ফেরেশতা আছে। এসব কি কেউ কখনো দেখেছে? 

গতকাল স্টুডেন্টকে পড়াতে গিয়ে এ চিন্তার অসারতার নতুন একটা দিক খুঁজে পেলাম। যখন বলছিলাম একটা বস্তুকে উপরে ছেড়ে দিলে নিচে নামে কেন। কারণ পৃথিবীর অভিকর্ষ। নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রানুযায়ী প্রত্যেক বস্তুই একে অপরকে নিজ দিকে আকর্ষণ করে। এমনকি দুটো কলম পাশাপাশি রেখে দিলেও এরাও আসলে পরস্পরকে আকর্ষণ করে। কিন্তু আকর্ষণের পরমিাণ অনুভূত হবার চেয়ে অনেক কম হওয়ায় দেখা যায়না বা বোঝাই যায়না। তাই বলে কি তাদের আকর্ষণ মিথ্যা????!!!!
 
অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যায়। 

একইভাবে 'চোখে দেখিনা' দোহাই দিয়ে কোনভাবেই জান্নাত জাহান্নামকে অস্বীকার করা যায়না। পৃথিবীর অস্তিত্ব যেমন বাস্তব তার চেয়েও বাস্তব পরকাল। পৃথিবীর সকল কাজ-কর্মের প্রতিফল পাবার জন্যে আরেকটা জগত প্রয়োজন যেখানে এখানে না পাওয়া প্রাপ্য সঠিকভাবে ন্যায় বিচারের মাধ্যমে দেওয়া হবে। প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাবে। যারা মহান কাজ সম্পাদন করেও এখানে পুরস্কার পাননি তাদের পুরস্কৃত করা হবে। যারা একাই অসংখ্য মানুষের ক্ষতিসাধন করেছে তাদের থেকে কড়ায় গন্ডায় হিসেব নেওয়া হবে। একমাত্র পরকালের ভয় আর আল্লাহভীতিই মানুষকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পারে। যে মনে সে যে করছে তার হিসেব দিতে হবে আর যে উল্টোটা মনে করছে দুজনের কাজের প্রকৃতি একই হওয়া সম্ভব নয়। প্রথমজন অবশ্যই অন্যের জন্যে ও সমাজের জন্যে ক্ষতিকর কাজ এড়িয়ে যাবে। 

এছাড়া যে আল্লাহ কুরআনে এত সুন্দর গুছিয়ে মানবজীবনের সব বিষয় আলেঅচনা করেছেন, সমাধান দিয়েছেন নির্ভুল অসংখ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য দিয়েছেন তাঁর আর একটি কথা পরকালের ব্যাপারে সেটা বিশ্বাস না করাই অস্বাভাবিক।
 
যে মুহাম্মাদ সা. জীবনে মিথ্যা বলেনি, বানিয়ে কোন কথা বলেননি যার সাক্ষ্য তাঁর ঘোর বিরোধীরাও দিত তিনি পরকালের ব্যাপারে উদ্ভট একটা কথা বলেছেন এটা মেনে নেওয়াও হাস্যকর ও অযৌক্তিক।

মুসলিমদের জাগতিক জ্ঞানার্জন করা কি পাপ?

কয়েকদিন আগে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম প্রোগ্রামিং এর ধারণা আল্লাহর অস্তিত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছে। সেখানে আমি মূলত বোঝাতে চেয়েছি বিভিন্ন প্রাকৃতিক সূত্র এককথায় মহাবিশ্বের যত সৃষ্টি এগুলো সবই স্রষ্টার সাক্ষ্য বহন করে। অর্থ্যাৎ একজন বুদ্ধিমান লোক যদি খোলামন নিয়ে এগুলো পর্যবেক্ষণ করে তবে সে স্রষ্টার অস্তিত্ব উপলদ্ধি করবে। একজন মন্তব্য করলেন- 


প্রথমেই উনি বললেন জ্ঞান বিজ্ঞান ইহুদী নাসারাদের সম্পদ। অথচ আধুনিক বিজ্ঞানের সূচনা করেছে ইসলামই। যখন ইউরোপের পড়তে জানা মানুষকে হাতে গোণা যেত তখনও মুসলিম স্পেনের প্রত্যেক মুসলিমের বাড়িতে ছিল বিভিন্ন বিষয়ের উপরে লিখিত সমৃদ্ধ লাইব্রেরী। কারণ তখন মুসলিমরা কুরআনরে সকল বিধান মেনে চলত আর তাই মানত তার প্রথম বাণীও অর্থ্যাৎ "পড় তোমার রবের নামে" (৯৬:১)। জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতি অনীহাও অন্যতম কারণ যা মুসলিমদের আজ পেছনে ফেলে রেখেছে। 

এরপর বললেন আর এইসব প্রোগ্রাম, কম্পিউটার বিদ্যা হইল ইহুদি নাসারাদের সৃষ্টি। অথচ উনি সেই নাসারাদের কম্পিউটার ব্যাবহার করেই মন্তব্য করেছেন। এছাড়াও প্রতিদিন উনিসহ সবাই "নাসারাদের অসংখ্য তৈরি জিনিস ব্যাবহার করেন। কথা হচ্ছে কোন জিনিস কার সৃষ্টি সেটা মূখ্য নয়। দেখতে হবে সেটার ব্যাবহার শরীয়াত অনুমোদন করে কিনা। এজন্যেই অমুসলিমদের তৈরি বিমানও আপনি ব্যাবহার করতে পারবেন কিন্তু কোন মুসলিমও যদি সিনেমা হল বানায় (আল্লাহ মাফ করুন) আপনি কি সিনেমা দেখবেন? 

এরপর বললেন সহীহ ইল্মের তা'লিমের পেছনে ওয়াক্ত গুজার করিবার জন্য সকল কে আহবান জানাই, কারণ ইনসানী হায়াত খুবই সীমিত, এই সময়ের মধ্যে একজন মানুষের পক্ষে তামাম ফিকহ শাস্ত্রের তা'লিম লইবারই সুযোগ ঘটেনা, আর প্রোগ্রামিং এর তা'লিম লইবার ওয়াক্ত কই বলুন? 
ইলম মানেই ধর্মীয় জীবন যাপনের জন্যে নিছক কিছু সুরা ক্বেরাত ও দোয়া কালাম নয়। একজন মুসলিম যে যেই পেশায় নিয়োজিত আছেন বা যে ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে পড়াশোনা করেছেন তাকে সেই জ্ঞান কাজে লাগাতে হবে ইসলাম প্রচারের জন্যে, নিছক ইনকাম করবার জন্যে নয়। ফিকই শাস্ত্রের তালিম লওয়ার ব্যাপারে বলি- এটা সকল মুসলমানের জন্যে ফরজ নয় যে সবাই একজন করে মুফতি হয়ে যাবেন। হ্যাঁ, প্রত্যেককেই মুসলিম হিসেবে জীবন যাপন করার জন্যে যতটুকুক প্রয়োজন তাতো জানতে হবেই। যেমন যার হজ্ব করা ফরজ তিনি হজ্বের নিয়মাবলী জানতে হবে। কিন্তু যাপর উপর হজ্ব ফরজ নয় তার জন্যে হজ্বের নিয়ম জানা ফরজ নয়। একইভাবে অবিবাহিতের জন্যে ,দম্পিত্যবিষয়ক, তালাকের নিয়ম জানা জরুরী নয়। 

তাই ন্যূনতম জ্ঞান অর্জনের পরে চাইলে কেউ ফকীহও হতে পারেন কিন্তু তার জন্য দাওয়াত দেওয়া ফরজ সেটা যদি মিস হয় মুফতি হলেও আল্লাহ মাফ করবেনা। এজন্যেই প্রত্যেক মুসলিমকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দাওয়াতী কাজ করার জন্যে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের জ্ঞান শিখা এবং তা প্রয়োগ করে আল্লাহর দিকে ডাকা কোন বেহুদা কাজ নয়। 

এরপরে বলেন জীবন তো অতি সামান্য। হ্যাঁ অবশ্যই। তার মানে কি এই যে পৃথিবীর সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাজ করতে হবে? বরং আল্লাহর দেওয়া প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পালন করতে হবে। জীবনের সকল পর্যায়ে ইসলামকে প্রতিষ্টিত করার দায়িত্ব এ স্বল্প জীবনে যতদিন বেঁচে থাকি করে যেতে হবে। 
রাসুল সাঃকে যখন নবুওয়্যাত দেওয়া হলো তখন তিনি তো সাথে আরো কয়জন নিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাজ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি যথার্থই প্রতিনিধি হলেন। যখন তাঁকে লোভ দেখিয়ে থামতে বলা হলো তিনি বললেন হয় আমি এ কাজে বিজয়ী হবো নয়তো এ কাজ করতে্ করতেই নিজকে শেষ করে দেবো। 

পরিশেষে বলি আল্লাহ নিজেই কুরআনে বিভিন্ন বিভাগের জ্ঞানীদেরকে বুঝানোর জন্যে বিজ্ঞানের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। যেমন (সুরা হাজ্জ,২২:৫
"হে লোকসকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দিগ্ধ হও, তবে (ভেবে দেখ-) আমি তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্যে। আর আমি এক নির্দিষ্ট কালের জন্যে মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই, এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি; তারপর যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌছানো হয়, যাতে সে জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান থাকে না। তুমি ভূমিকে পতিত দেখতে পাও, অতঃপর আমি যখন তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন তা সতেজ ও স্ফীত হয়ে যায় এবং সর্বপ্রকার সুদৃশ্য উদ্ভিদ উৎপন্ন করে।" 
এছাড়াও (সুরা আলে ইমরান, ৩:১৯০) 
নিশ্চয় আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধ সম্পন্ন লোকদের জন্যে। 
{কেউ দ্বিমত করতে চাইলে নিজস্ব মতের ভিত্তিতে করলে চলবেনা। কুরআন হাদিসের দলিলের ভিত্তিতে হতে হবে}

কুরআনের গাণিতিক অলৌকিকতা

কুরআনের চির-আধুনিক আইন কানুনের পাশাপাশি ভাষার সাহিত্যিক মান ও আধুনিক বিজ্ঞান আলোচনার সাথে সাথে এতে রয়েছে গণিতের বিস্ময়কর সামন্জস্য। 
যেমন কুরআনে ইনসান বা মানুষ কথাটি এসেছে ৬৫ বার। 
সুরা হাজ্জ (২২:৫) এবং সুরা মুমিনূন (২৩:১২-১৪) থেকে জানা যায় মানুষ সৃষ্টির ক্রমিক ধাপগুলো হলো 
১. মাটি (তুরাব تُرَابٍ) 
২. নুতফা ( نُّطْفَةٍ=জীবনকণা) 
৩. আলাকা ( عَلَقَةٍ=জোঁকের মত বস্তু, যা লেগে থাকে, যা ঝুলে থাকে) 
৪. মুদগাহ ( مُّضْغَةٍ =মাংসপিন্ড) 
৫. এযাম ( عِظَـٰمًا=হাড়) এবং 
৬. লাহম (لَحْمًا =গোশত) 
কুরআনের বভিন্ন স্থানে এ শব্দগুলো উলেখ করা হয়েছে যথাক্রমে ১৭, ১২, ৬, ৩, ১৫ এবং ১২ বার। 
এগুলো যোগ করে আমরা পাই ৬৫ যা ইনসান বা মানুষ শব্দের উল্লেখের সমান।

আল্লাহর অনুপম সৃষ্টি ভারসাম্য- প্রসঙ্গ: শব্দের গতিবেগ

আমরা জানি বাতাসে শব্দের গতিবেগ সেকেন্ডে প্রায় ৩৪০ মিটার। কিন্তু
আমরা একটু গভীর চিন্তাভাবনা করলে দেখতে পাব এই নির্দিষ্ট গতিবেগটি কত
ভারসাম্যপূর্ণ!
ধরা যাক, শব্দের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩৪০ মিটার না হয়ে ৩৪০ মিলিমিটার,
যা মানুষের হাঁটার বেগের চেয়েও কম। এ অবস্থায় যদি দুজন লোক ঘরে বসে
কথাবার্তা বলে তবে তেমন সমস্যা হবেনা। কিন্তু যদি পায়চারী করতে করতে কথা
বলা হয় তাহলে বেগ কম হবার কারণে শব্দগুলো পরস্পরের সাথে মিলেমিশে একাকার
হয়ে জগাখিচুড়ি হয়ে যাবে। ফলে কোন কথাই স্পষ্টরূপে বোধগম্য হবেনা।
আরো মজার ব্যাপার ঘটবে যখন বক্তা অপরজনের দিকে এগিয়ে আসতে থাকবেন। এ
অবস্থায় বক্তার প্রথমে বলা শব্দগুলো শ্রোতার কানে পৌঁছুবে সবশেষে। কারণ
কথকের বেগ শব্দের বেগের চেয়ে বেশি। ফলে এক মুহূর্ত আগে বলা কথাটা
শ্রোতার নিকট থেকে তার চেয়ে বেশি দূরতে থাকবে।

ফলে ক্রমান্বয়ে শেষে বলা শব্দগুলো শ্রোতা আগে শুনতে থাকবে। ফলে বাক্য গঠন হয়ে যাবে উল্টো।
যেমন যদি বলা হয়, “এক দেশে এক রাজা ছিল” তবে শোনা যাবে, “ছিল রাজা এক দেশে এক”।
পকৃতপক্ষে অবস্থা অরো খারাপ হবে কারণ বাক্যের শুধু শব্দুগুলোই ক্রম
পাল্টাবে কেন? প্রতিটি ধ্বনিই ক্রম পাল্টাবে। ফলে কোনভাবেই বক্তব্য বুঝে
আসবেনা। একইভাবে শব্দের বেগ যদি অনেক বেশি হত তাহলেও অনেক জটিলতায় পড়তে
হতো।
জড়বাদীরা যেমনটা দাবী করে এ বিশ্বপ্রকৃতি আপনাআপনি অস্তিত্বে এসেছে,
সেক্ষেত্রে এরকম মহাবিশ্বের হাজারো ভারসাম্য কীভাবে আপনাআপনি তৈরি হলো?
তাপগতিবিদ্যা (thermodynamics) থেকে আমরা জানি কোন ব্যাবস্থা (system)কে হস্তক্ষেপবিহীন অবস্থায় রেখে দিলে সেখান থেকে গঠনমূলক বা ভারসাম্যপূর্ণ কিছু তৈরি হওয়া অসম্ভব।
এই মহাবিশ্বে এমন অসংখ্য সুশৃংখ্যলতা ও ভারসাম্যপূর্ণতার নিদর্শন আছে যা
থেকে এটা ধারণা করাও অসম্ভব ও অবজ্ঞৈানিক যে এই মহাকাঠামো (superstucture) নিজে থেকেই অস্তিত্বে এসেছে।
কুরআনে তাই আল্লাহ ঘোষণা করছেন-
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ
”আসমান ও জমিনের সৃষ্টি ও দিন-রাতের ক্রমাবর্তনের মধ্যে বুদ্ধিমানদের
জন্যে অবশ্যই অনেক নিদর্শন রয়েছে”
(সুরা আলে ইমরান, ৩:১৯০

প্রোগ্রামিং এর ধারণা আল্লাহর অস্তিত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছে।

আমারা প্রায় সবাই কিছুনা কিছু প্রোগ্রামিং জানি এবং এমন কিছু বানাতে পারি যা আমাদের ইচ্ছেমতো চলবে। আমরা যদি একটা সফটওয়্যার বানাই তবে আমাদের নির্ধারিত আদেশ মেনে চলবে। এ সফটওয়্যারগুলো অনেক সময় ব্যাবহারকারিদেরদের কাস্টোমাইজ বা নিজের মতো করে সাজানোর সুবিধা দেয়। যেমন খুব সরল একটা উদাহরণ দিই আমারা পিসিতে একটা ডকুমেন্ট লিখতে পারি। ইচ্ছেমতো এটার রং, ফন্ট, আকার বদলাতে পারি। আমার অনেক সুন্দর-দর্শন একটা ফাইল বানিয়ে ফেলতে পারি। অথবা চাইলে পিডিএফ ফাইলও সুন্দর করে বানাতে পারি। কিন্তু এই বানানোর কৃতিত্বটা কি আমাদের?
মোটেই না। বরং যে লোক ওয়ার্ডফাইল সফটওয়্যার বা পিডিএফ রূপান্তরক বানিয়েছে এটা তারই কৃতিত্ব। এ কারণেই আমাদের ব্যাবহারকরীদের সীমাবদ্ধতা রয়ে যায়। আমরা চাইলেও এমন কাস্টোমাইজ করতে পারবোনা যা সফটওয়্যার এর মূল নির্মাতা সুযোগ করে রাখেনি।

এছাড়া আমরা css, html, php ইত্যাদি ব্যাবহার করে অপূর্ব সুন্দর ওয়েবসাইট বানাতে পারি। কিন্তু এই বানানোর কুতিত্বও আমাদের নয় বরং তাদের যারা এই ভাষাগুলো উদ্ভাবন করেছে।

আমরা দৈনন্দিন অনেক যন্ত্রপাতি ব্যাবহার করে থাকি যেগুলো আবিষ্কার করেছেন প্রতিভাবান বিজ্ঞানীরা। সেগুলোও আমারা ইচ্ছামতো এদিকসেদিক করে ব্যাবহার করতে পারি। যেমন আমরা একটা টিভি সেটের ভলিউম বাড়াতে-কমাতে পারি। কিন্তু এতদূর বাড়াতে পারিনা যার সুযোগ নির্মাতা রাখেনি। টিভি এখানে তারা নির্মাতার দেয়া নিয়ম মেন চলে।

এখন একটা ভাবা যাক।
যখন একটা টিভি বানানো হলো, এটা কেন টিভি হলো কেন একটা গাড়ি হলোন?
উত্তর হলো ঐ মূল প্রক্রিয়াটাও প্রকৃতির একটা নিয়ম মেনে চলে যা নির্ধারণ করে দিয়েছেন আল্লাহ। মানুষ প্রকৃতির নিয়মকে কাজে লাগিয়ে একটা যন্ত্র বানিয়ে ফেলল। তাই বলে সেটার কৃতিত্ব মানুষের নয় বরং সেই আল্লাহর যাঁর দেওয়া নিয়ম মেনে চলেই তাকে যন্ত্রটা বানাতে হয়েছিল। আর যন্ত্র ঐ নিয়ম মেনে চলে বলেই যখন টিভি হবার উপযোগী প্রক্রিয়া চালানো হলো তখন সেটা টিভিই হলো, গাড়ি হলোনা।

মানুষের তৈরি বিভিন্ন কাস্টোমাইজেবল সফটওয়্যারে যেমন সীমাবদ্ধ কিছু সুবিধা থাকে তেমনি আল্লাহর প্রোগ্রামকৃত এই পুরো মহাবিশ্বের নিয়ম কাজে লাগিয়ে কিছু যন্ত্রপাতি বানানো গেলেও তারও একটা সীমা আছে যা আমরা লংঘন করতে পারিনা।

যেমন আমরা কোন অবিরাম-গতি যন্ত্র বানাতে পারিনা যেটা ইনপুট না নিয়েই অবিরাম আউটপুট দিয়ে যাবে। আমারা জানি মহাবিশ্ব ধ্বংস হয়ে যাবে। আমারা সেটা ঠেকাতে পারবোন। বিজ্ঞান সেটা স্বীকার করেই ফেলেছে। আমরা জানি মহাবিশ্বের সকল শক্তির পরিমাণ নিদির্ষ্ট ও অপরিবর্তনীয়। শক্তি বাড়ানো, কমানো যায়না। শুধু রূপান্তর করা য়ায় মাত্র।
 অর্থ্যাৎ আল্লাহ আমাদের শক্তি রূপান্তর করবার সুবিধা দিয়েছেন কিন্তু বাড়ানো, কমানোর সুবিধা দেননি।

এই যে এতসব এতসব নিয়ম, বিজ্ঞানের ভাষায় এমন অপূর্ব গঠনমূলক বিধি ও নিয়ম আপনাআপনি গড়ে উঠতে পারেনা। প্রকৃতপক্ষে এসব নিয়ম-বিধান আল্লাহই নির্ধারিত (programmed ) করে রেখেছেন।
আল্লাহ আমাদের বোঝার তৌফিক দিন, আমীন।

read in english on my mobile blog.

কুরআনে বিজ্ঞান: আবিষ্কার(discovery) না উদ্ভাবন(invention) : প্রসঙ্গ- বিগব্যাঙ

আল কুরআন। সুরা আম্বিয়া (২১:৩০)

أَوَلَمْ يَرَالَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ
 
অর্থ:
অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে, অতঃপর আমি উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না

বস্তুত এ আয়াতে অতিসংক্ষেপে মহাবিশ্ব সৃষ্টির বর্ণনা দেওয়া আছে। নেটে
ইসলামের অন্যতম কুৎসাকারী আলী সিনার (পাতানো নাম) মতে এখানে বিগব্যাংগ এর কথা খুঁজে পাওয়া নাকি হাস্যকর। তার মতে পৃথিবী সমগ্র মহাবিশ্বের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ। বলা হলো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী একসাথে মিশে ছিল পরে বিচ্ছিন্ন করা হলো- এ তুলনা কীভাবে হতে পারে? পুরো আকাশমন্ডলীর সাথে পৃথিবীর তুলনা কি করে হয়? যেখানে এক অংশ সুবিশাল এবং অপর অংশ সে তুলনায় অবিবেচ্য।

খন্ডন: 
১.কল্পনা করা যাক, এমন একটা বিশাল দেশ (ধরা যাক ) আছে যেখানে সর্বত্র নৈরাজ্য, হানাহানি, গৃহযুদ্ধ চলছে। পরে এই দেশের একটি ক্ষুদ্র অংশ () নিজেকে স্বাধীন করে ঐ বিশাল অংশ থেকে আলাদা হয়ে গেল। পরবর্তীতে এটা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত হল। কিন্তু বিশাল দেশটির অবশিষ্টাংশ এখনো নৈরাজ্যে ভরপুর। কোন শান্তিকামী মানুষ সেখানে বাস করতে চাবেনা।
এ প্রেক্ষাপট থেকে কি বলা যাবেনা যে
প্রথমে যুক্ত ছিল পরে বিভক্ত হয়ে গেল?
বলা যাবে কারণ ক আয়তনে বড় ঠিকই কিন্তু গুরুত্বে ও তাৎপর্যে বড় হচ্ছে খ। ফলে খ ই বেশি নজরকাড়া ও বিবেচনাপূর্ণ।

এখন পর্যন্ত জানা তথ্য মতে পৃথিবী মহাবিশ্বের একমাত্র বসবাসোপযোগী গ্রহ। সমগ্র মহাবিশ্বের তুলনায় আয়তনে এটা তুচ্ছ বটে তবে সুশৃংখ্যলতা, বসবাসোপযোগীতা ইত্যাদি দিক দিয়ে এটা সমগ্র মহাবিশ্বের চেয়েও বেশি তাৎপর্যের
দাবীদার। 

পৃথিবী এমনই এক ভারসাম্যপূর্ণ স্থানে আছে যদি বুধ বা শুক্রের মত সূর্য্য থেকে আরেকটু কাছে থাকত তবে অত্যাধিক গরমের কারণে আর কিছুটা দূরে হলে মঙ্গলের (ইত্যাদি) মত শীতল হবার কারণে বসবাসোনপযোগী হয়ে পড়ত।

২. মানুষের সকল চিন্তাচেতনার (হোক তা মহাকাশবিজ্ঞান বিষয়ক- সেক্ষেত্রেও নভোচারীরা পৃথিবীকেই তাদের বাড়ী বলে অনুভব করেন।) কেন্দ্র এই পৃথিবী। মানুষের নিত্ত-নৈমিত্তিক আচার-আচরণ (dealings) এক কেন্দ্র করে। 
তাই মহাবিশ্ব আলাদা হয়ে কি তৈরি হল তা সঠিকরূপে বর্ণনা করার ও মানুষের জন্য বোধ্যগম্য করে ( যাতে সহজেই তুলনাটা বোঝা যায়) উপস্হাপনের এটাই সবোৎকৃষ্ট উপায়। 

৩. পৃথিবীকে উল্লেখের আরেকটা কারণ  হতে পারে আমাদের সামনে পৃথিবীর আদি অবস্থা তুলে ধরা। অর্থ্যাৎ এটা কি আগে থেকেই বিচ্ছিন্ন ছিল না এটা অন্য সকল মহাজাগতিক বস্তুর সাথে যুক্ত অবস্থায় ছিল। (পৃথিবী কি দিয়ে তৈরি বা আদি অবস্থায় কি কি পদার্থ দিয়ে তৈরি হয় সেটা এ আয়াতের আলোচ্য বিষয় নয়। সে আলোচনাও যথাস্হানে আছে-৪১:১১)

কুরআনে বৈজ্ঞানিক নিদর্শন উল্লেখের উদ্দেশ্য: মনে রাখতে আল কুরআন মূলত বিজ্ঞানের বই নয়। এটা হলো সব জ্ঞানের বই। এতে আছে আয়াত বা নিদর্শন। এতে মৌলিক পথপ্রদর্শনের পাশাপাশি মানবজীবনের প্রয়োজনীয় সকল জ্ঞানের কথা উল্লেখের মূল উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের গবেষকদের জানিয়ে দেওয়া  যে তুমি যে সত্য এখন জানলে সেটা আমি অনেক আগেই কিতাবে লিখে রেখেছি ( লাওহে মাহফুজে- যেখান থেকে কুরআনকে নাযিল করা হয়)। এবং এভাবে তাকে আল্লাহর অস্তিত্ব, পরকাল ইত্যাদির ব্যাপারে নিশ্চিত বুঝিয়ে দেওয়া যাতে করে সে আত্মসমর্পণ করে (অর্থ্যাৎ মুসলিম হয়ে যায়) ও পরকালে জবাবদিহীতার কথা মনে রেখে অপরাধের পথে পা না বাড়ায়।

বিজ্ঞান মানবজীবনের একমাত্র বিষয়বস্তু, মাপকাঠি বা সিদ্ধান্ত-নির্ণায়ক নয় :  
অনেকে মনে করেন বিজ্ঞানই মানব জীবনের একমাত্র আলোচ্যবস্তু ও মাপকাঠি বা সিদ্ধান্ত-নির্ণায়ক। তাই সবকিছুকে বিজ্ঞানের পাল্লা দিয়ে মেপে দেখতে হবে। ( যেমন করে অনেকে আবার অর্থনীতিকে একমাত্র বিষয়বস্তু বলে ধরে নেয়- কমিউনিস্টরা)। সত্যি কথা হলো মানবজীবনের আলোচ্যবিষয় সমূহের মধ্যে (যেমন সমাজনীতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি) একটা হচ্ছে('one of the' not 'the only') বিজ্ঞান। তাই কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে সকল বিষয়কে মিলিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ আপাতদৃষ্টিতা বিষয়গুলোকে পরস্পর সম্পর্কহীন মনে হলেও এসবগুলোর সমষ্টিই যেহেতু মানবজীবন তাই এদের মধ্যে অবশ্যই আন্ত:সম্পর্ক থাকতেই হবে। 
যেমন- পুরো মানবদেহের অঙ্গগুলো আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কহীন বলে মনে হলেও হাত,পা, অন্ত্র, কিডনি ইত্যাদি গভীরভাবে পরস্পর সম্পর্কিত। 
এ সম্পর্কে ছোটবেলায় আব্বুর বলা একটি কৌতুক মনে পড়ল। একবার নাকি হাত,পা বিদ্রোহ করল যে আমরা এত কষ্ট করে উপার্জন করি- আর পেট ব্যাটা বসে বসে খায়। আমরা কাল থেকে কাজ করবনা। যা ভাবা তাই কাজ। তারা কাজ করলনা। কয়েকদিন পর নিজেরাই দেখল হায়রে কোথায় আগের সেই হৃষ্টপুষ্ট হাত-পা!  তার বদলে এখন যে হাত, পায়ের কোষগুলি শুকিয়ে একবারে মৃতপ্রায়!! পরে বেচারারা আবার কাজ শুরু করল।

আরো পোস্ট দেখতে পুরাতন পোস্টসমূহ লেখায় ক্লিক করুন